চাঁপাইনবাবগঞ্জে আখচাষে ফিরেছে প্রাণ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক কৃষক আখচাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এক সময়ে জেলার আখচাষ ধীরগতিতে চলে গিয়েছিল এবং অনেক চাষি আখচাষ ছেড়ে দিয়ে অন্য ফসলের দিকে মনোনিবেশ করেছিলেন।
তবে চলতি মৌসুমে আখশিল্পে দৃশ্যমান পুনর্জীবন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আখ থেকে উৎপাদিত গুড়ের চাহিদা মেটাতে এবার জেলার কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পুঠিমারি বিল সংলগ্ন বিশাল মাঠে, আখের সারি সারি জমি সবুজে ভরে উঠেছে। এবং চাষিরা নতুন উৎসাহ নিয়ে মাঠে কাজ করছেন।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের সেতাউর রহমান গত ১৫ বছর ধরে আখ চাষ করছেন। তিনি চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন এবং আশা করছেন প্রায় ৫০ হাজার টাকা লাভ। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় গুড়ের ওজন ভালো, দামও ভালো এবং গুড়ের দানাও ভালো হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং আখে রোগবালাই কম থাকায় এবছর ফলন সন্তোষজনক। মাঠভরা সবুজ আখ এবং ভালো ফলনে চাষিদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে। চাষীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর গুড়ের দাম ভালো এবং মিষ্টি স্বাদও বেড়েছে।
আধুনিক প্যাকেজিং ও মান নিয়ন্ত্রণের কারণে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি গুড়ের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। শহরকেন্দ্রিক বাজারের মানুষ স্বাদ ও স্বাস্থ্যগত কারণে চিনির বদলে প্রাকৃতিক গুড়ের দিকে ঝুঁকছেন। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুড়কে বিভিন্নভাবে বিক্রি করা হচ্ছে, যেমন পাউডার আকারে বা ঝোলা প্যাকেজে, এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, আমের সঙ্গে তুলনা করলে আখের লাভ বেশি হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জানান, আখচাষীদের জন্য ভবিষ্যতে বিশেষ প্রণোদনা রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে সাধারণ গুড়ের কেজি মূল্য ৮০-১০০ টাকা হলেও প্রক্রিয়াজাতকৃত পাউডার বা ঝোলা গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৪০০ টাকায়। এ কারণে চাষিরা আখ চাষ থেকে ভালো অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছেন।
এবারের পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, দীর্ঘ কয়েক বছরের লোকসানের পরও আখচাষ পুনরুজ্জীবিত হতে পারে, এবং আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে চাষিরা লাভবান হতে পারেন।