রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মার্চ ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১০ মার্চ ২০২৬ ০১:১০ অপরাহ্ন
টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে নারী ও কন্যাদের অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, নারী সমাজের অর্ধেক অংশ। তাদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো দেশ বা সমাজের পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সকল নারী ও মেয়ের জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার, পদক্ষেপ’ শীর্ষক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সংলাপের আয়োজন করে বরেন্দ্র ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বিডো) প্রকল্প ডিজিটাল গণতন্ত্রের জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা।

সংলাপে বক্তারা বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব এবং নিরাপত্তাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। নারীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হলে শুধু একজন নারী নয়, একটি পরিবার, সমাজ এবং পুরো জাতি উপকৃত হয়। তাই নারীদের পেছনে রেখে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।

বক্তারা আরও বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইনে নারীর চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্র, পরিবার ও সমাজে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য দূর করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা।

বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যার অধিকার রক্ষা শুধু একটি দিবসের কর্মসূচি নয়; এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব। নারী ও কন্যাদের প্রতি সহিংসতা, বৈষম্য ও অবিচার বন্ধ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তারা আরও বলেন, আইনগত সুরক্ষা জোরদার করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার মধ্য দিয়েই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ আজকের কন্যাশিশুই আগামী দিনের নেতৃত্ব, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের শক্তি।

সংলাপে সভাপতিত্ব করেন বিডোর নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক শরীফুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায়। সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডোর ডিজিটাল গণতন্ত্রের জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম। 

মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন রুরাল আন্ডারপ্রিভিলেজড ল্যান্ডলেস ফার্মার অর্গানাইজেশন (রুলফাও) এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন, অনগ্রসর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রাজকুমার শাও, অ্যাডভোকেট কানিজ ফাতেমা, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী নাজমুল ইসলাম, দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনা।