শামস সুমন সমাহিত হবেন হেঁতেমখা গোরস্থানে
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনকে সমাহিত করা হবে রাজশাহীতে। পরিবারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে দাফন করা হবে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে শামস সুমনের ছোট ভাই রাশেদ রিপন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাবিরা লন্ডন থেকে রওয়ানা দিয়েছেন। রাতে দেশে পৌছাবেন। এরপর মরদেহ রাজশাহীতে নিয়ে আসা হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে লক্ষীপুর ঝাউতলা জামে মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে হেঁতেমখা গোরস্থানে দাফন করা হবে।
শামস সুমনের জন্ম ও বেড়ে উঠা রাজশাহীতে। তিনি ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে রাজশাহী গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে বাণিজ্য বিভাগে এসএসসি পরীক্ষা দেন। রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯৮৪ সালে বাণিজ্য বিভাগ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন রাজশাহী কলেজ থেকে। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
স্কুলজীবনে রাজশাহী বেতারে অভিনয়ের মাধ্যমে শুরু শামস সুমনের যাত্রা। পরে রেডিও নাটক, উপস্থাপনাও করেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি সংগঠন ‘স্বনন’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
তার স্ত্রী ফারজানা শামস লিজা দীর্ঘদিন থেকে সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। তিনি সে দেশের নাগরিক। শামস সুমনের বড় ছেলে জুবায়ের শামস শাহিল লন্ডনে মেডিকেল কলেজে পড়ছেন। ছোট ছেলে জুবায়েদ শামস সাফিন পড়ছে ‘ও’ লেভেলে। আর সবার ছোট মেয়ে সায়ান শামস পড়ে ‘এ’ লেভেলে।
দীর্ঘদিন ধরেই তাকে পর্দায় দেখা যায়নি। তিনি একটি রেডিও স্টেশন প্রধান ও চ্যানেলের অনুষ্ঠান বিভাগের পরিচালক ছিলেন। মন জানে না মনের ঠিকানা (২০১৬), কঙবাজারে কাকাতুয়া (২০১৬), চোখের দেখা (২০১৬), প্রিয়া তুমি সুখী হও (২০১৪), আয়না কাহিনী (২০১৩), বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), জয়যাত্রা (২০০৪), নমুনা (২০০৮), হ্যালো অমিত (২০১২), জয়যাত্রা (২০০৪) সহ আরও বেশ কিছু সিনেমায় তিনি অভিনয় করেছেন। ২০০৮ সালে ‘স্বপ্নপূরণ’ চলচ্চিত্রে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান শামস সুমন।