রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

রাজশাহীর পোলট্রি শিল্পে মন্দা

সোনার দেশ ২১ জুন ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২১ জুন ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
রাজশাহীর পোলট্রি শিল্পে মন্দা

সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও এগিয়ে আসতে হবে

বর্তমান বাজারে সবচেয়ে সস্তার প্রাণিজ আমিষের অন্যতম পোল্ট্রি মুরগি ও ডিম। দেশে পোল্ট্রি ব্যাপক কর্মসংস্থানমুখী একটি সমৃদ্ধ শিল্প। গ্রামীণ পরিবারের গৃহস্থালি কাজে আয় বাড়ানোর একটি হাতিয়ার পোল্ট্রিশিল্প। এ শিল্প যেমন লাখ লাখ লোকের কাজের সুযোগ সৃষ্টি করেছে অন্যদিকে সস্তার পুষ্টির যোগান দিয়ে দেশে মেধাবী এবং সুস্থ-সবল প্রজন্ম তৈরিতে অবদান রেখে যাচ্ছে। তবে খামারিদের দাবি, অন্যান্য পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে সে তুলনায় ডিমের দাম না বাড়ায় নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে পোল্ট্রিশিল্প।


শনিবার (২০ জুন) ‘রাজশাহীর পোলট্রি শিল্পে মন্দা’-শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ্য করা হয়েছে, উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে ডিম ও মুরগির দাম কম। সেই সাথে বেড়েছে সিন্ডিকেট এবং বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র প্রভাব। সব মিলিয়ে রাজশাহীর পোলট্রি শিল্পে নেমে এসেছে মন্দা। টানা লোকসানের ধাক্কা সামলাতে না পেরে গত এক দশকে জেলার অর্ধেকেরও বেশি প্রান্তিক ও মাঝারি খামার বন্ধ হয়ে গেছে। পুঁজি হারিয়ে অনেক উদ্যোক্তা এখন ঋণের জালে জর্জরিত। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে।


এই মুহূর্তে বাজারে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ।


আসলে, এ শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে খাদ্যের উপাদানের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া অন্যতম। এ চ্যালেঞ্জ দুটি মোকাবেলা করতে খামারিরা দিন-দিন হিমশিম খাচ্ছে। পোল্ট্রিশিল্পের সঙ্গে জড়িত কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক সেটা চাই না। খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে পোল্ট্রি ফিড বা হ্যাচারির ব্যবসা টিকতে পারবে না। আবার ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে খামারিদের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়। উভয় পক্ষকে বিষয়টি বুঝতে হবে। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো- এখনো দেশে কোনো পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা কর্পোরেশন গড়ে ওঠেনি।


অথচ তুলা উন্নয়ন বোর্ড আছে, পাট, পানি কিংবা চা উন্নয়ন বোর্ড আছে। মসলা গবেষণা কেন্দ্র, আখ গবেষণা কেন্দ্র, ডাল গবেষণা কেন্দ্রের মতো অসংখ্য গবেষণা এবং বোর্ড রয়েছে। ফলে পোল্ট্রিশিল্পে যথাযথ নীতিনির্ধারণ যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে তেমনি দেশের খামারিবান্ধব প্রকল্প প্রণয়নে বিঘ্নিত হচ্ছে! আমাদের মনে রাখতে হবে সম্ভাবনাময় পোল্ট্রিশিল্প ধ্বংস হলে ৫০ লাখ মানুষ বেকার ও পরোক্ষভাবে এক থেকে দেড় কোটি মানুষ পথে বসার উপক্রম হবে। ইতোমধ্যে পোল্ট্রিশিল্পের ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশি ১০টি কোম্পানি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।


ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কোম্পানিগুলোর কাছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দেশি কোম্পানিগুলো জিম্মি হয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই এ শিল্পকে রক্ষা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। পোল্ট্রিশিল্পের জন্য আলাদা ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা করপোরেশন গড়ে তুলতে হবে। অ্যাসোসিয়শনের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগী হতে হবে। ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের উৎপাদন খরচ, ক্রয় মূল্য, পরিবহন খরচ, অন্যান্য খরচ এবং বিক্রেতার লভ্যাংশসহ ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দাম নির্ধারণ করা সময়ের দাবি। এছাড়াও মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক খামারিরা চরম সংকটে আছেন। প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।