শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

কানসাট বাজারে ঢলন প্রথা চলছে

সোনার দেশ ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৬ জুন ২০২৬ ১১:৪০ অপরাহ্ন
কানসাট বাজারে ঢলন প্রথা চলছে

শোষণমূলক প্রথা বন্ধে কঠোর হতে হবে

রাজশাহী অঞ্চলের আমের বাজার বেশ জমজমাট। আম ব্যবসায় ‘ঢলন’ প্রথা বন্ধ ঘোষণার পর আমচাষিদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আমবাজারে মানা হচ্ছে না। ফলে ‘ঢলন’ প্রথা অব্যাহত থাকায় হতাশ আমচাষিরা। সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 


আমচাষিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ৯ জুন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘আমের বিপণন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায়’ সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত হয় যে, ঢলন প্রথা আর থাকবে না। আম কেজি দরে বিক্রি ও ক্রয় করতে হবে। কিন্তু রাজশাহী অঞ্চলের বৃহত্তম বাজার কানসাটের আড়ৎদাররা পূর্ব নিয়মে অর্থাৎ ঢলন প্রথা বজায় রেখেছে।


ফলে, কানসাট আমবাজারে চাষিদের বাধ্য হয়ে মণপ্রতি ৫৫-৫৬ কেজি আম ওজন দিতে হচ্ছে। আমের বাজার চাঙ্গা হলেও চাষিরা লাভবান হতে পারছেন না। চাষিদের মণপ্রতি ১৫-১৬ কেজি আম বেশি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভাগীয় প্রশাসন আমচাষী, আড়ৎদার ও আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভার মাধ্যমে ঢলন প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  রাজশাহী বিভাগের কোনো আমবাজারে মণ প্রতি ৪০ কেজির বেশি আম নেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু কানসাট বাজারে এর ব্যত্যয় ঘটেছে। 


আম ব্যবসায় ‘ঢলন’ (ধলতা) প্রথা ব্রিটিশ আমল থেকেই চলে আসছে। এই প্রথার মাধ্যমে আমচাষিদের শোষণ করা হয়। এরফলে সাধারণ আমচাষি ও বাগানিরা প্রতিমণ আমে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। এই শোষণের ধরন থেকে মুক্তির জন্য আমচাষিরা দীর্ঘ সময় ধরে ঢলন প্রথা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে ঢলন প্রথার বিরুদ্ধে আলোচনা হচ্ছিল, প্রতিবাদ হচ্ছিল। শোষণমূলক একটি ব্যবস্থা মোটেও চলতে দেয়া যায় না। এই ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অর্থই হলো একটি দুষ্টচক্র প্রকাশ্যেই শোষণ ব্যবস্থা চালিয়ে যায়- অথচ তারা এতোদিন দায়মুক্তিই পেয়ে আসছিল।


শোষণ প্রক্রিয়া সামাজিকিকরণ করা হয়েছিল কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়। বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টিকে আমলে নিয়ে ঢলন প্রথা বাতিল করেছে। কিন্তু দুষ্টচক্র নানা অজুহাতে শোষণ মূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়। যা দেশের মানুষের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। বিষয়টি অধিক আন্তরিক বিবেচনায় নিয়ে বিভাগীয় প্রশাসন তাদের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোরভাবে ঢলন প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে, তেমনটিই প্রত্যাশা। যে বা যারাই এই শোষণমূলক প্রথাকে টিকিয়ে রাখতে চায় তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে, শাস্তি দিতে হবে।