ঈশ্বরদীতে চৈত্র সংক্রান্তি ও বীজ মেলা : ‘সহজ পথে আনন্দ’
পাবনার ঈশ্বরদীতে বাংলা বছরের শেষ দিন গতকাল সোমবার চৈত্র সংক্রান্তি ও বীজ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সহজ পথে আনন্দ’Ñ এই শ্লোগানে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আরশিনগর বীজঘর প্রাঙ্গনে উবিনীগ ও নয়াকৃষি আন্দোলন এই মেলার আয়োজন করে। দিনভর মেলায় ছিল উপচে পড়া ভীড়। সকাল থেকে মেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো নারী-পুরুষরা মেলায় প্রদর্শিত প্রায় ৩ শতাধিক বিভিন্ন ফল-ফসলের বীজ, খেলনা, কুটির শিল্পের বাঁশ-বেতে তৈরী বিভিন্ন গ্রামীন ঐতিহ্যমাখা সামগ্রী, চৈতালী ফসল, মুড়িসহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেন।
বীজঘর প্রাঙ্গনে তৈরী মঞ্চে পল্লী গীতি, ভাওয়াইয়া, লালন গীতিসহ স্থানীয় বাংলা গানের আয়োজনে ছোট-বড় প্রায় ২০ জন শিল্পীরা দিনভর গান পরিবেশন করেন। বিকেলে আয়োজিত গানের আসর ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ সোয়াইব। নয়া কৃষি আন্দোলন ও উবিনীগের ঈশ্বরদী আঞ্চলিক দপ্তরের প্রধান সমন্বয়ক আজমিরা খাতুনের সভাপতিত্বে ও গবেষক গোলাম মোস্তফা রনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সেহাব উদ্দিন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার রাজিবুল হাসান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার শাম্মী শিরিন, প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন।
মেলায় প্রদর্শিত শত শত বীজ দেখতে ঈশ্বরদীর আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় উপস্থিত কৃষক জহুরুল আক্তার বলেন, শুধু ধানের বীজের বৈচিত্র দেখে আমি হতবাক হয়েছি। যেসব নামের ধানের বীজ ও অন্যান্য ফসলের বীজ দেখেছি তা আমি আগে কখনো দেখিনি। নারী কৃষক জাহানার বেগম বলেন, এই মেলায় না এলে জানতেই পারতাম না এত ধরনের বীজ আমাদের দেশে আছে। মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান উবিনীগের ঈশ্বরদী আঞ্চলিক দপ্তরের প্রধান সমন্বয়ক আজমিরা খাতুন বলেন, আমরা কৃষককে তাদের বীজের জাতের সঙ্গে পরিচিতি লাভ করানোর উদ্দেশ্যে এই মেলার আয়োজন করেছি। মেলায় আগত কৃষকরা এতে উপকৃত হবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, এর আগে কখনো এ ধরনের মেলায় যাওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমি এ ধরনের মেলা এবং মেলায় প্রদর্শিত বীজ ও পণ্য প্রথমবারের মত দেখলাম, দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি।