রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা

সোনার দেশ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৭ অপরাহ্ন
কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলা

মব সন্ত্রাস প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা চাই

১১ এপ্রিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে পীরের আস্তানায় হামলা, ভাঙ্চুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ওই হামলায় ওই আস্তানার ‘পীর’ শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনা সারা দেশে ব্যাপকভাবে আলোচনা ও সমালোচনা জন্ম দিয়েছে।


প্রকাশ্যে দিবালোকে সশস্ত্র দলবদ্ধ হয়ে এই হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উ’কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার আমলে ‘মব ভায়োলেন্স’ সারা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার এই ‘মব ভায়োলেন্স’ কে আশ্রয়- প্রশ্রয় দিয়েছে এমন অভিযোগ করা হয়। দেশের মানুষের ধারণা অর্ন্তবর্তী সরকারের পর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ‘মব ভায়োলেন্স’-এর কোনো সুযোগ থাকবে না।


দেশে আইনের শাসনের সূচনা হবে তেমনই প্রত্যাশা। নতুন সরকার আমলেও মব সন্ত্রাস অব্যাহত থাকায় মানুষ যে আতঙ্কগ্রস্ত হবে- সেটাই স্বাভাবিক। কুষ্টিয়ার এই ঘটনার আগের দিনও ‘মব ভায়োলেন্স’-এর ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। ১০ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামিতার অভিযোগ তুলে একদল নারী-পুরুষের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়ায় নৃশংস ঘটনার পর মামলা হয়েছে। পুলিশ অপরাধীদের চিহ্নিত করেছে কিন্তু এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলেছে, তারা আত্মগোপনে আছে।  


৩০ মার্চ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করবো, তবে মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের প্রবণতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যই দেশের মানুষের কাছে প্রত্যাশিত। নতুন সরকারের আমলে দেশে মব সন্ত্রাস মোটেও কাম্য নয়। তবে কোনো অবস্থাতেই মব সন্ত্রাস দমনের বিষয়টি যেন কথার কথা না হয়। যারা এ ধরনের সন্ত্রাসে জড়িয়ে পড়ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থাই কাম্য। 


তবে মব সন্ত্রাস ছড়িয়ে কোনো পক্ষ সরকারের ভাবর্মূর্তি ক্ষুণ্ন করছে কী না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।