শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

সোনার দেশ ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪৮ অপরাহ্ন
শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে

শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগযোগ্য প্রশিক্ষণ চালু করা উচিত

সরকার শিক্ষাখাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণসহ নানারকম প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শিক্ষা কাঠামো অর্থাৎ শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত, অবকাঠামোগত মূল্যায়ন এবং পেশার মর্যাদা বাড়াতে টেকসই বিনিয়োগের অভাব রয়ে গেছে। ফলে দেশে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে যেখানে সনদ আছে, দক্ষতা নেই। সরকারি উদ্যোগে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বেড়েছে, বেড়েছে পাসের হার। কিন্তু বিভিন্ন শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রত্যাশিত দক্ষতা অর্জন করছে না। এসব ব্যর্থতার পেছনে পাঠ্যক্রম ও প্রযুক্তি উপকরণের অভাবকে একটি কারণ বলা হলেও মূল সমস্যা শ্রেণিকক্ষের সংস্কৃতিতে। শ্রেণিকক্ষগুলো বহুলাংশে দক্ষ শিক্ষকের অপেক্ষায়। ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক বিশ্ব শিক্ষা পরিসংখ্যান সেই সত্যটিকে সংখ্যার ভাষায় হাজির করেছে।


দক্ষিণ এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে ন্যূনতম দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষকের হারে বাংলাদেশ সবার পেছনে। এক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলক অনগ্রসর দেশগুলোর বিচারেও বাংলাদেশ পিছিয়ে। বিষয়টি মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য উদ্বেগজনক, কারণ এ স্তর উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অভিগম্যতার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেশে একদিকে যেমন পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, অন্যদিকে যে শিক্ষকরা আছেন তাদের অনেকের মধ্যেও বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি দেখা যায়। আরও পরিষ্কার করে বলা যায়, শিক্ষকদের দক্ষতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একটি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, সেটি হলো-শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতে দেশি প্রশিক্ষকদের পাশাপাশি বিদেশি প্রশিক্ষকদের দেশে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।


বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিক্ষা অবকাঠামোয় শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন স্তরে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। কিন্তু এসব প্রশিক্ষণের গুণগত মান আজও প্রশ্নবিদ্ধ। শিক্ষকদের অনেকেই আধুনিক পাঠদানের কৌশল, প্রযুক্তি উপকরণ ব্যবহারে পর্যাপ্ত দক্ষ এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষতায় পরিপূর্ণভাবে পারদর্শী হচ্ছেন না। মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করায় শিক্ষকদের অনেকেই প্রশিক্ষণ শেষে শ্রেণিকক্ষে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন না। প্রশিক্ষণ এখন অনেক ক্ষেত্রেই পেশাগত দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে একটি আনুষ্ঠানিক সনদ অর্জনের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। তাই বিষয়ভিত্তিক, চলমান এবং শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগযোগ্য প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।


সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন। যেসব প্রতিষ্ঠান নামমাত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে সনদ প্রদান করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।