রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ

সোনার দেশ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৪০ অপরাহ্ন
দেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ

সরকারকে মাদক প্রতিরোধে কঠোর হতে হবে

মাদক একটি মরণনেশা ও মারাত্মক বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এই অবৈধ পাচার, নানা অপরাধ বৃদ্ধি ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে ন্যক্কারজনক ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু মাদকের ভয়াবহতা মোকাবিলায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, সামাজিক সচেতনতা এবং জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দরকার। তা তেমন দেখা যায় না।


পুলিশ প্রশাসনের মতে, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সহিত জড়িত মাদকাসক্তির সম্পর্ক। আশঙ্কার বিষয় হলো, বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও মাদকাসক্তির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। যে সকল দেশে মাদক উৎপাদিত হয়, সে সকল দেশের চক্রের মধ্যে বাংলাদেশ অবস্থিত, যেমন-দক্ষিণ-পূর্বে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও লাওসে উৎপন্ন হয় পপিগাছ (আফিম)। আবার উত্তর-পশ্চিমে গোল্ডেন ক্রিসেন্ট পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান।


সাম্প্রতিক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। শঙ্কার বিষয় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর এক বৃহৎ অংশই তরুণ এবং তাদের অধিকাংশই আঠারো বছর বয়স পূর্ণ হবার পূর্বেই এই সর্বনাশা পথে পা বাড়িয়েছে। এই তথ্য কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটা জাতির মেরুদণ্ড বলিয়া পরিচিত যুবসমাজের অবক্ষয়ের এক মর্মান্তিক চিত্র। প্রমাণিত হয় যে, মাদকাসক্তির ধরন যেমন বেড়েছে, তেমনি আজ শহর-গ্রাম-সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। যা একটি সুন্দর ও শান্তিময় সমাজব্যবস্থার অন্তরায় এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।


গবেষণায় দেখা যায়, দেশে মাদকসেবীদের মধ্যে গাঁজা সব চেয়ে বেশি সেবন করা হয়। এরপরেই রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে গৃহীত মাদকের স্থান। একসময় দেশে ফেনসিডিল ছিল বহুল প্রচলিত মাদক। এখন সেখানে নিত্যনতুন মাদক জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের ক্রমবর্ধমান হার জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ বার্তা বহন করছে।


অধিকাংশ মাদকাসক্ত ব্যক্তি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাদের এক বিশাল অংশ সুচিকিৎসা কিংবা পুনর্বাসন সেবা থেকে বঞ্চিত। যথাযথ চিকিৎসার অভাব ও সামাজিক পুনরন্তর্ভুক্তির সুযোগ না থাকায় মাদক ছাড়ার পর পুনরায় লিপ্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় মাদক সমস্যাকে কেবল দণ্ডবিধির আয়নায় না দেখে একে একটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বড় সংকট হিসাবে বিবেচনা করা অত্যাবশ্যক।


সরকারকে মাদক চোরাচালান রোধে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনই কিশোর ও তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অধিক যত্নশীল হতে হবে। কেবল আইন দিয়ে এই ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন এবং ব্যাপক জনসচেতনতা। পরিবারের অভিভাবককে তাদের সন্তানদের প্রতি অধিকতর নজর রাখতে হবে।