শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

তেলের সংকটে থমকে গেছে পবার হাঁসের হোটেল ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০১:৫৪ অপরাহ্ন
তেলের সংকটে থমকে গেছে পবার হাঁসের হোটেল ব্যবসা

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল কমে যাওয়ায় রাজশাহীর পবা উপজেলার জনপ্রিয় হাঁসের মাংসের হোটেল ব্যবসায় নেমে এসেছে স্থবিরতা। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, যেখানে আগে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভোজন ভ্রমণে এসে ভিড় করতেন, এখন সেখানে বিরাজ করছে নিরবতা। পবা উপজেলার মড়মড়িয়া বাজারে কুটুমবাড়ি, বিয়ান বাড়ি ও তালুকদার বাড়িসহ একাধিক হাঁসের মাংসের হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে অতিথিরা ভোজন ভ্রমণে আসতেন। তবে তেলের সংকটে সেই চিত্র এখন একেবারেই বদলে গেছে।


স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, তেলের অভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার কমে যাওয়ায় ক্রেতা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে প্রতিদিনের বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে এবং কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।


দর্শনপাড়া ইউনিয়নের মড়মড়িয়া বাজারের ‘কুটুমবাড়ি’ রেস্তোরাঁর মালিক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “আগে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি পাতিহাঁস ও ৫০-৬০টি রাজহাঁস রান্না হতো। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০-২৫টি পাতিহাঁস ও ১০-১৫টি রাজহাঁসে। তাও বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আগে প্রতিদিন সাড়ে তিন থেকে চার মণ চালের ভাত রান্না হলেও বর্তমানে তা কমে মাত্র ২৫-৩০ কেজিতে নেমে এসেছে।


তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবসা মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল। রাজশাহী মহানগর, নাটোর ও পুঠিয়া উপজেলা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ গাড়ি নিয়ে এখানে খেতে আসতেন। এখন তেলের অভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল প্রাঙ্গণ ফাঁকা পড়ে থাকে। আগে যেখানে সারি সারি গাড়ি থাকত, এখন পাঁচটি গাড়িও চোখে পড়ে না।”


একই পরিস্থিতির কথা জানান আরেক ব্যবসায়ী খোকন শেখ। তিনি বলেন, “এখন লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, কর্মচারীদের বেতন দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় জমানো টাকা ভেঙে বা জিনিসপত্র বিক্রি করে বেতন দিতে হচ্ছে। এতে ব্যবসার মূলধনও ফুরিয়ে যাচ্ছে।”


এদিকে ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে হতাশা। রাজশাহী মহানগরের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন বলেন, “আগে নিজের মোটরসাইকেলে ২০ মিনিটেই এখানে চলে আসতাম। এখন অটো বা চার্জার ভ্যানে আসতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগে। তাই আগের মতো আসা হয় না।”


ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও রাস্তায় যান চলাচল বাড়বে এবং তাদের ব্যবসাও ঘুরে দাঁড়াবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাওয়াই তাদের একমাত্র লক্ষ্য।