বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৩০, ২০২৬

চবিতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডা, ২ শিক্ষার্থীকে পিটুনি

সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
চবিতে ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডা, ২ শিক্ষার্থীকে পিটুনি
গ্রেপ্তার ইমন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেল গেইট এলাকায় শিক্ষার্থীদের ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয়রা দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার রাত ১০টায় ঘটা এ ঘটনায় গভীর রাতে মামলা হয়েছে, পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রধান আসামিকে।

আহতরা হলেন— যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবির সরকার ও আশিকুর ইসলাম। তাদের মধ্যে আবির শহীদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদের গবেষণা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।

হামলার ঘটনায় রাত সাড়ে ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

ঘটনার বর্ণনায় আশিকুর ইসলাম বলেন, “আমরা সাতজন ইসলামিয়া হোটেলে খেতে গিয়েছিলাম। খাবার শেষে ক্যাম্পাসে ফেরত আসার জন্যে সিএনজি পাচ্ছিলাম না। তাই সিএনজি খোঁজার জন্য রেল ক্রসিংয়ের দিকে যাচ্ছিলাম। এমন সময় ক্যাম্পাসগামী ৩ নম্বর বাস আসতে দেখে বাসটাকে আমরা থামাই।

“বাসটা থামতে থামতে আমাদের আর বাসের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব হয়ে যায়। তখন আমরা দ্রুত আসার জন্য বাসের দিকে দৌড় দেই। তখন হই-হুল্লোরের করতে করতে কোনো ভাই মজা করে বলেছে ‘নারায়ে তাকবির’; আরেক ভাই বলেছে ‘আল্লাহু আকবার’।”

“এ সময় পাশ থেকে স্থানীয় একজন বলে উঠলেন, ‘আপনারা স্লোগান দিলেন কেন?’ তখন আমাদের এইজন বলে ওঠে, ‘স্লোগান দিয়েছে, এটাতে তো আপনাদের কোন সমস্যা নাই’। এটা বলে আমরা বাসে উঠে যাই।”

আশিকুরের ভাষ্য, “এরপরে স্থানীয় একজন সামনে গিয়ে বাসটি থামায়। তাদের ঔদ্ধ্যত আচরণ দেখে আমার বন্ধু আবির বাস থেকে নামতে নামতে ভিডিও করার জন্য ফোন বের করে । ও যখন ক্যামেরা বের করেছে ভিডিও করার জন্য, তখন তারা (স্থানীয়রা) তার ফোনটি কেড়ে নেয়।

“তখন আমি, শামীম ভাই এবং ফরহাদ ভাই বাস থেকে নেমে ফোনটি ফেরত চাই। তখন তারা ফোন ফেরত দিতে চায় না। এরপর আবির তার সাংবাদিকতার পরিচয় দিলে তারা আবিরের কাছে আইডি কার্ড দেখতে চাইলে আবির বলে, ‘আইডি কার্ড আমার ফোনের ভেতর। ফোনটি ফেরত দেন আমি আপনাদের আইডি কার্ড দেখাচ্ছি’।

“তখনও তারা (স্থানীয়) ফোনটি দেয় না।এরপর আমি ফোনটি নেওয়ার জন্যে হাত বাড়ালে উনি (স্থানীয়) আমার বুকে একটা ঘুষি দেয়। তখন আমি ফোনটি ছিনিয়ে নিই।”

এ সময় স্থানীয়রা মারধর শুরু করে দাবি করে আশিকুর বলেন, “এ পর্যায়ে তারা পাশের দোকান থেকে কাঠ নিয়ে এসে এলোপাতারি মারধর শুরু করে। তখন আবির সামনে থাকায় তার উপর হামলা করলে আবিরের বাম হাতের কনুইয়ে আঘাত লাগে।

“এরপর আমার ঘাড় বরাবর কাঠ দিয়ে একটা বাড়ি দিয়েছে এবং পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।”

ঘটনাস্থলে যেসব শিক্ষার্থী ছিলেন, তারা হলেন- আলিমুল শামীম, মাহবুব হাসান ফরহাদ, আশিকুর ইসলাম, মেহেদী হাসান, জাহিন আবির সরকার, মাজহারুল ইসলাম শুভ ও আরিক রহমান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “আমি এ ঘটনা শোনার সাথে সাথেই প্রশাসনকে জানিয়েছি আসামিকে দুই ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য বলেছি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, “জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের দিকে আঘাত পেয়েছে, যার কারণে তার এক্স-রে করার প্রয়োজন দেখা দেয়। আমরা তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠিয়ে দেই। আশিকুর রহমান ঘাড় ও হাতে আঘাত পাওয়া গেছে।”

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চাকসুর এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বলেন, “বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালকে আমি অবগত করেছি।

“পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

ঘটনার পর রাত সাড়ে ৩টায় জাহিন আবির সরকার বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় স্থানীয় ইমন (২৫) ও শফিককে (২৭) আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ইমনকে রাত ৪ টায় হাটহাজারীর এগারোমাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান।

তিনি বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ