মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে পরীক্ষার হলে এমপি, করলেন ফেসবুক লাইভ
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে গিয়ে হলের ভেতর থেকে ফেসবুকে লাইভ করেছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়া। এ সময় তার ‘অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া এমপি’ ফেসবুক পেজ থেকে লাইভ করা হয়। সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া জাতীয় শিক্ষক সমিতির চেয়ারম্যান।
ওই ফেসবুক লাইভে দেখা গেছে, সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়া হোমনা সরকারি কলেজের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠছেন। পরে পরীক্ষার হলের একটি কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষক এবং পরীক্ষার্থীদের অঙ্গভঙ্গিতে নির্দেশনা দিচ্ছেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সামনের কক্ষের দিকে যাচ্ছেন। এসময় ক্যামেরার পেছনে থাকা কেউ একজন সংসদ সদস্যের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের বর্ণনা করছেন। পরের কক্ষে সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়া প্রবেশ করে সামনের বেঞ্চে বসা এক শিক্ষার্থীর কাছে চলে যান।
এসময় সেলিম ভূইয়াকে প্রশ্ন করতে শোনা যায়- পরীক্ষা সহজ হইছে নাকি? কিছুক্ষণ পর সেই কক্ষ থেকে বের হয়ে অন্য একটি কক্ষের দিকে যেতে থাকলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এসে সালাম দিয়ে ‘আমি প্রধান শিক্ষক’ বলতে থাকেন। এসময় সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়া তাকে ‘আপনি আপনার কাজ করেন’ বলে তাকে চলে যেতে হাতে ইশারা দিতে দেখা যায়।
কিছুক্ষণ পর আরেকটি কক্ষে প্রবেশ করে সোজা কক্ষের মাঝ বরাবর চলে যান। সেখানে পরীক্ষারত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেমন হয়েছে বলে প্রশ্ন করেন। এভাবে ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড লাইভে সংযুক্ত থাকতে দেখা গেছে সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়াকে।
গত ১২ এপ্রিল রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাফ জানিয়ে দেন পরীক্ষার কেন্দ্রে কোনো জনপ্রতিনিধি যেতে পারবেন না। মন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পরও সংসদ সদস্য সেলিম ভূইয়া পরীক্ষার হলে পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় ফেসবুক লাইভও করেছেন কেন্দ্রের ভেতর এমনকি কক্ষের ভেতর থেকে। যা সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য।
এদিকে একজন শিক্ষক নেতার এমন আচরণে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কুমিল্লার সচেতন মহল। সচেতন নাগরিকদের দাবি মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী
একজন সংসদ সদস্য হয়ে তিনি পরীক্ষা পরিদর্শনই করতে পারেন না, সেখানে কক্ষ থেকে লাইভ করে ভালো কাজ করেননি।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি আলমগীর খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, জনপ্রতিনিধি পরীক্ষার হলে প্রবেশ করলে এমনিতেই শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ বাড়ে। সেকারণে মন্ত্রী হয়তো নির্দেশনা দিয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েও মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করেছেন। এটা অপ্রত্যাশিত। মন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এটার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি আশা করব জনপ্রতিনিধিরা বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভবিষ্যতে এসব কাজ থেকে বিরত থাকবেন।
হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাকে একজন বলল এমপি স্যার এসেছেন, আমি তখন উনার সঙ্গে দেখা করতে যাই। পরে আমার প্রশ্নপত্রের কাজ ছিল বিধায় দেখা করে আমি চলে যাই। এরপর কী হয়েছে আর জানি না। ফেসবুক লাইভ করলেন, না কী করলেন কিছুই জানি না।
সংসদ সদস্যের সঙ্গে দুইজন ব্যক্তি ছিল, একজন সামনে থেকে ক্যামেরা ধরেছেন, আরেকজন পেছন থেকে ভিডিও করছেন এটা দেখেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনার (সংসদ সদস্য) সঙ্গে আর কে ছিল আমি খেয়াল করিনি।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়ার মোবাইল নম্বরে তিনবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামছুল আলম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা কোনো জনপ্রতিনিধি পরীক্ষার হলে পরিদর্শনে যাবেন না কাউকে সঙ্গে নিয়ে, সেখানে ফেসবুক লাইভ তো দূরের কথা। আমি এ বিষয়টি এখনই জানলাম। আপনাকে ধন্যবাদ বিষয়টি জানানোর জন্য।
সেই ফেসবুক লাইভের লিংক এবং প্রতিষ্ঠানের বাম হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করে শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান আরও বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয় যদি এটা করে থাকেন আমরা বোর্ড থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব।
তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট