মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা কুমার শরৎকুমার রায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী বুধবার

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩২ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা কুমার শরৎকুমার রায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী বুধবার

বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কুমার শরৎকুমার রায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী (১৫০তম) বুধবার, ২২ এপ্রিল। নাটোরের দিঘাপতিয়ার রাজপরিবারে তিনি ২২ এপ্রিল ১৮৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ এপ্রিল ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। শরৎকুমার রায়ের পিতা দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথ রায়, মাতা দ্রবময়ী দেবী। তিনি নিজে ও তাঁর বংশীয় রাজা-জমিদাররা ছিলেন প্রবল বিদ্যানুরাগী ও প্রজাহিতৈষী। কুমার শরৎকুমার রায়ের অমরকীর্তি রাজশাহীর ‘বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’। 

বরেন্দ্রভূমির মহান এই কৃতীপুরুষের জীবন-কর্ম তুলে ধরার জন্য ‘স্মরণে-বরণে কুমার শরৎকুমার রায়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা যৌথভাবে আগামীকাল বুধবার আয়োজন করেছে ‘বাতিঘর’ ও ‘বরেন্দ্র ইতিহাস পরিষদ’ রাজশাহী। রাজশাহী বাতিঘরের অভ্যন্তরে সভাটি হবে সন্ধ্যা ৭ টায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. সফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভার প্রধান আলোচক দৈনিক সোনার দেশ-এর সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত। কুমার শরৎকুমার রায়ের জীবন-কর্ম তুলে ধরে বরেন্দ্র ইতিহাস পরিষদ একটি স্মারকপত্র প্রকাশ করেছে। কুমার শরৎকুমার রায়ের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী স্মরণে মো. সফিকুল ইসলাম রচিত ‘বাংলার গৌরব বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম’ নামীয় গ্রন্থ প্রকাশ করেছে ঢাকার প্রকাশনী ‘কথাপ্রকাশ’।

স্মরণযোগ্য যে, সুবিখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, ইতিহাসবিদ রমাপ্রসাদ চন্দসহ কৃতী নাগরিকদের নিয়ে কুমার শরৎকুমার রায় ১৯১০ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর নিজ অর্থে রাজশাহী শহরে বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করেন এবং আমৃত্যু চার দশক ইতিহাস রচনার নেতৃত্ব দিয়েছেন। সরকারি সিদ্ধান্তে এই মিউজিয়ামের মালিকানা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তর করা হয় ১৯৬৪ সালের ১০ অক্টোবর এবং সেই মিউজিয়ামটি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে গৌরবময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের প্রথম এই মিউজিয়ামে প্রায় ১৮ হাজার বহুমাত্রিক প্রত্ননিদর্শন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির পরিচয় বহন করে চলেছে।

এই মিউজিয়ামে পাঁচ হাজার বছর আগের সিন্ধুসভ্যতার প্রায় তিনশত প্রত্ননিদর্শন রয়েছে। এত প্রাচীন নিদর্শন বাংলাদেশের আর কোনো মিউজিয়ামে নেই। নওগাঁ পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহারসহ বরেন্দ্রের আরও বহু প্রত্নতাত্ত্বিক খননের অমর পথিকৃৎ কুমার শরৎকুমার রায়। তাঁর অর্থায়নে সর্বপ্রথম সোমপুর মহাবিহারে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন শুরু হয় ১৯২৩ সালের ১ মার্চ এবং এই খননই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বেসরকারি উদ্যোগে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রত্নতাত্ত্বিক খনন। কুমার শরৎকুমার রায়ের দ্বিতীয় জ্যেষ্ঠ সহোদরের মৃত্যুর পর তিনি অপর কনিষ্ঠ সহোদর কুমার হেমেন্দ্র কুমার রায়কে নিয়ে ১৯২০ সাল থেকে আমৃত্যু নাটোর দয়ারামপুর জমিদারি পরিচালনা করেন। দয়ারামপুরে অবস্থিত কাদিরাবাদ সেনানিবাস শরৎকুমার রায়ের জমিদার বাড়িতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।#