মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬

রংপুর নগরীর সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোর থেকে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন

সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সোনার দেশ ডেস্ক ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩৬ অপরাহ্ন
রংপুর নগরীর সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোর থেকে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন
রংপুর নগরীরর ২২টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে

বিভাগীয় নগরী রংপুরের ২২টি ফিলিং স্টেশনের সবগুলো বন্ধ। তিনটিতে তেল দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর ভোর থেকে সেখানে মোটরসাইকেল আর প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। তবে কখন তেল দেওয়া হবে তা ফিলিং স্টেশনগুলোর কর্মচারীরা বলতে পারছেন না। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছেন গ্রাহকরা।

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করার পরে এখনও রেশনিং পদ্ধতিতে ডিপো থেকে চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করায় গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, নগরীর সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না, সেখানেও রেশনিং পদ্ধতি এখনও বহাল রাখা রাখা হয়েছে। ফলে দু-তিন দিন পরপর একেকটা ফিলিং স্টেশনকে চাহিদার অর্ধেক জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে ফিলিং স্টেশনগুলোর অভিযোগ।

রোববার সকালে রংপুর নগরীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর ধাপ এলাকায় সিটি ফিলিং স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল আর প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, ফজরের আজানের পরপরই তারা ফিলিং স্টেশনে লাইন ধরে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কিছুই বলছে না কখন তেল দেবে। তবে দুটি ট্যাংক লরি ওই ফিলিং স্টেশনে দেখা গেলো। ওই ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টায় মোটরসাইকেলের লাইন দীর্ঘ হতে হতে প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।

মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করা নগরীর সিও বাজার এলাকার বাসিন্দা রাহমান জানান, তিন-চারটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে বন্ধ পাওয়ায় সিটি ফিলিং স্টেশনে এসেছেন ভোর ৬টায়। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠারে চাকরি করেন পীরগঞ্জ উপজেলায়। আশা করেছিলেন ৯টার মধ্যে তেল পেলে কর্মস্থলে যাবেন, কিন্তু দুপুরে না বিকালে, কখন পাবেন তাও বুঝতে পারছেন না।’ এভাবে অপেক্ষায় রেখে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পীরগাছায় বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করা সাহেব উদ্দিন বললেন, প্রতিদিন রংপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে পীরগাছায় যান। তার তেল দরকার প্রতিদিন কমপক্ষে দুই লিটার। এখন পাঁচ লিটার তেল দেওয়া হয়, যা দিয়ে দুই দিন চলে। ফলে দুই দিন পর পর তাকে এভাবে ভোরবেলা বের হয়ে ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক দিন দেরিতে অফিসে যেতে হয়।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘সরকার বলে, পর্যাপ্ত তেল আছে, তাহলে রেশনিং পদ্ধতি কেন? সব পাম্পে প্রতিদিন জ্বালানি তেল দেওয়া হলে তো সমস্যা থাকে না। আসলে সরকার পুরো ঘটনা বলে না, এভাবে আমাদের তেল দেওয়ার নামে হয়রানি আর কতদিন চলবে?’

এদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর আগে ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে যে জ্বালানি দেওয়া হতো এখন তা আরও কমিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের। এ ব্যাপারে নর্দান ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার রিপন বলেন, ‘এখনও রেশনিং পদ্ধতিতে ৬ হাজার লিটারের স্থলে ৩ হাজার লিটার জ্বালানি দেওয়ায় আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারছি না। আর সব ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন তেল দেওয়া হলে মানুষের এমন হয়রানির শিকার হতে হতো না।’

তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন