ঈশ্বরদীর ইউএনওকে অপসারণ করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীর মানববন্ধন
সরকার ঘোষিত খাল খনন কর্মসূচীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অসহোযোগিতা করার অভিযোগ এনে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবকে অপসারণ করার দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (৩ মে) ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে শহরের রেলগেট জিরোপয়েন্টে মানববন্ধন ও পথসভায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা এ দাবি জানান। আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মু. সাইদুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সেক্রেটারি মো. হাফিজুর রহমান খান, পৌর শাখার আমির মওলানা মো. গোলাম আজম খান, সেক্রেটারি মওলানা মো. আল-আমিন প্রমুখ। এর আগে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ইউএনওকে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে মোটর সাইকেল শোডাউন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।
জামায়াতে ইসলামীর ঈশ্বরদী পৌর শাখার আমির মওলানা গোলাম আজম খান অভিযোগ করে বলেন, সরকারি কর্মসূচী অনুযায়ী রোববার উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের কমলা নদীতে খাল খনন কর্মসূচী উদ্বোধন করার কথা ছিল পাবনা-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের। এ উপলক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর শনিবার রাতে খাল খনন কর্মসূচী স্থগিত করার কথা সংসদ সদস্যকে মুঠোফোনে জানান ইউএনও। এ ঘটনায় এমপিকে অপমান করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। ফলশ্রুতিতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে তার অপসারণের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এ প্রসঙ্গে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মুলাডুলিতে খাল খনন করার পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রোববার খাল খনন কর্মসূচী উদ্বোধন করার জন্য ইউএনও নিজেই আমার নিকট থেকে সময় নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। কিন্তু শনিবার রাতে তিনি হঠাৎ আমাকে মোবাইল করে বলেন, ‘একটু ঝামেলা আছে খাল খনন কর্মসূচীর আয়োজনটা রোববার না করে পরে করলে ভালো হয়, তিনি আপাতত কর্মসূচী স্থগিত করে পরে তারিখ জানানো হবে বলে আমাকে জানান।’
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপজেলা প্রশাসনের একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, মুলাডুলি এলাকায় গত শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মারপিট, সভায় হামলা, সংঘর্ষ ও পরে শনিবার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিএনপি মুলাডুলিতে সংবাদ সম্মেলন করে। ওই এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর এমপিকে নিয়ে মুলাডুলিতে খাল খনন কর্মসূচী উদ্বোধন করলে স্থানীয়ভাবে সমস্যা হতে পারে ভেবে উপজেলা প্রশাসন কর্মসূচী পিছিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।