সোমবার, মে ০৪, ২০২৬

রাবির ট্যুরিজম বিভাগে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

রাবি প্রতিবেদক ০৪ মে ২০২৬ ০১:২৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ০৪ মে ২০২৬ ০১:২৪ অপরাহ্ন
রাবির ট্যুরিজম বিভাগে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নয়জন সিনিয়র ও এক ব্যাচমেটের বিরুদ্ধে র‌্যাগিং, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, হেনস্থা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলেছেন প্রথম বর্ষের ১০জন শিক্ষার্থী।

রবিবার (৩ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরে কয়েকজন সিনিয়রের বিরুদ্ধে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ দেন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসব শিক্ষার্থীরা।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন- ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের তানভীরুল ইসলাম ইমন, আফতাব ইমন, সজিব রহমান, অলি আহমেদ, রিওয় খান, তাসিবুল ফাহাদ, মাহফুজুল ইসলাম নয়ন, ফরহাদ রেজা ইমন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নাফিউল ইসলাম অনিক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নোমায়েত ইসলাম মারুফ।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নিয়মিতভাবে তাদেরকে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে তথাকথিত ‘ম্যানার শেখানো’র নামে অপমানজনক আচরণ করা হত। বারবার নিজের পরিচয় দেওয়া, বিকৃত কবিতা আবৃত্তি ও গান বলানো, ব্যক্তিগত কথোপকথন দেখাতে বাধ্য করা, অকারণে গালিগালাজ, মারধরের হুমকি এবং পরিবার নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং খাতায় একাধিক পৃষ্ঠা ধরে সিনিয়রদের নাম লিখতে বাধ্য করা হত।

এ ছাড়া সিনিয়রদের ডাকে সাড়া না দিলে হুমকি এবং তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল অভিযুক্তরা।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গত বছরের নভেম্বরে এক শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে করা আন্দোলনের প্রসঙ্গও এনেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলেন, সেসময় এসব নতুন শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক সেই আন্দোলনে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। সেই আন্দোলনে নিরপেক্ষ থাকতে চাইলে তাদের পুরো ব্যাচকে ‘বয়কট’ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শনিবার বিকালে বিনোদপুর এলাকায় ডেকে নিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আবারও নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সেই শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত না হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর রবিবার একটি মিথ্যা নোটিশ দিয়ে ভুক্তভোগী এসব শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ডেকে এনে সিনিয়রদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। উপস্থিত না হলে বিভাগ ও ব্যাচ থেকে ‘বয়কট’ করার হুমকির কথাও অভিযোগপত্রে বলা হয়।

তবে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে নাফিউল ইসলাম বলেছেন, র‌্যাগিং হয়েছে এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে আমি অবগত নই।

আরেকজন তাসিবুল ফাহাদ বলেন, আমরা জুনিয়র ও সিনিয়র সবাই এক সঙ্গে বসেছিলাম। আমরা কোনো র‌্যাগ দেইনি, আমরা সিনিয়র হিসেবে তাদের নবীনবরণের বিষয়ে আলোচনার জন্য বসেছিলাম। র‌্যাগিংয়ের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে জানতে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মাজেদুল ইসলামের মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে র‌্যাগিংয়ের ধরন ও গভীরতা যাচাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।