উত্তেজনা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে: আইআরজিসি
ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি বা উস্কানি দিলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভয়াবহ ও গুরুতর’ পরিণতি ভোগ করতে হবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে আইআরজিসির রাজনৈতিক বিষয়ক উপ-কমান্ডার মেজর জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি এই সতর্কবার্তা দেন।
আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
মেজর জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাভানি সতর্ক করে বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলাফল ওয়াশিংটনের জন্য অনেক বেশি ভয়াবহ হবে। যুক্তরাষ্ট্র তার পেশিশক্তি প্রদর্শন করবে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা পরাজিত হবে।”
তিনি আরো যোগ করেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারবেন না।”
ইরানের সিনিয়র এই কমান্ডার স্পষ্টভাবে জানান, কোনো জাহাজ যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হতে চায়, তাহলে নিরাপদ থাকার জন্য তাকে অবশ্যই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শত্রু পক্ষের সঙ্গে যুক্ত কোনো জাহাজ যদি এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা করা হবে।
জাভানি দাবি করেন, মার্কিন-ইসরায়েলি শত্রু পক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সাম্প্রতিক আগ্রাসনে ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জন করতে পারেনি।
তিনি জানান, সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত আগ্রাসনে মার্কিন-ইসরায়েলি জোট তাদের ঘোষিত লক্ষ্যগুলো অর্জনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জাভানি উল্লেখ করেন, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মূল লক্ষ্য ছিল- ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা, অক্ষশক্তি ও এর সকল অনুসারী বাহিনীকে ধ্বংস করা, ইসলামী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো, দেশটিকে খণ্ডবিখণ্ড করা ও পুরো পশ্চিম এশিয়ার ওপর পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করা।
আইআরজিসি কমান্ডারের মতে, শত্রু পক্ষের এসব লক্ষ্যমাত্রার কোনোটিই অর্জিত হয়নি।
তিনি বলেন, ট্রাম্পের জন্য বর্তমান সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরান-নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা। ইরানের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের অভিযানের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট সব পথ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। জাভানি উল্লেখ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এমনকি তার ইউরোপীয় মিত্র এবং অন্যান্য দেশকেও এই প্রণালি খোলার কাজে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।
ইরানি কমান্ডার বলেন, ট্রাম্প এখন তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে তার স্বপ্ন পূরণ করতে চাচ্ছেন, কিন্তু পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন আরেক পরাশক্তির মুখোমুখি।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি