সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

পুলিশের সামনে টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে গেল যুবদল নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ মে ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৫ মে ২০২৬ ০৮:২৭ অপরাহ্ন
পুলিশের সামনে টেন্ডার বাক্স তুলে নিয়ে গেল যুবদল নেতারা

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) নিলামের টেন্ডার বাক্স পুলিশের সামনে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এর ১০ মিনিট পর কার্যালয়ের চারতলা থেকে টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণের আহ্বায়ক ধলু। এর সঙ্গে আরও কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


 

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে জানাজানি হয়েছে দুপুরের দিকে। এদিকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণের আহ্বায়ক ধলু ও ১৬ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে মহানগর কমিটি। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। 


আরডিএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অপ্রয়োজনীয় মালামাল বিক্রির জন্য ২০ এপ্রিল চারটি গ্রুপে দরপত্র আহ্বান করা হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারিত ছিল। তবে নিলামকে ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।


নিলামে আরডিএ মার্কেটের অচল মালামাল, আরডিএ পার্কের গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের পুরোনো বিলবোর্ডের সামগ্রী এবং ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস-কাম-রেস্ট হাউসের কিছু ব্যবহার অযোগ্য জিনিসপত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রায় ৪০০টি শিডিউল বিক্রি হয়েছিল বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব মালামালের মোট মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা।


সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একদল নেতাকর্মী আরডিএ ভবনে প্রবেশ করে। এ সময় তারা সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই হঠাৎ করে টেন্ডার বাক্সটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ সদস্যরা কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করেন। ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া টেন্ডার বাক্সটি উদ্ধার করে পুনরায় আরডিএ কার্যালয়ে নিয়ে আসে।


সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার সঙ্গে দুজন ছাড়াও নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন, যুবদল নেতা তৌফিক ও সাগর এবং শরিফসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


দরপত্র দাখিলকারী ঠিকাদার হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ছিনতাইয়ের পর ছিনতাইকারীরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে অন্যদের দরপত্রে কাটাকাটি করে পুনরায় বাক্সে জমা দিয়েছে। ৪৫০টি শিডিউল বিক্রি হলেও শেষ পর্যন্ত জমা পড়েছে অল্প সংখ্যক দরপত্র।


আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এসে জোর করে বাক্সটি নিয়ে যায়। পরে দুই মিনিটের মধ্যে তারা ভবনের চারতলায় বাক্সটি রেখে চলে যায়। পর অতিরিক্ত পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে নিরাপত্তা জোরদার করে নির্ধারিত সময়েই বেলা আড়াইটায় বাক্স খোলা হয়।


তিনি বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধার হওয়া টেন্ডার বাক্সটি খোলা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের সময় বেশ কিছু দরপত্রে কাটাকাটির চিহ্ন পাওয়া যায়, যা পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দরপত্র বাতিল হবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


এদিকে যুবদলের দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, (আরডিএ) ভবনে টেন্ডারের বাক্স সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা রাজশাহী মহানগর যুবদলের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ঘটনাটি সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী হওয়ায় বিষয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।


আপনাদের সুস্পষ্ট লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো। এই নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি এবং সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবির কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আপনার ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য বলা হলো। অন্যথায়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ভুল বোঝাবুঝির কারণে বাক্সটি নিয়ে গিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়েছেন। তবে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আরডিএ কর্তৃপক্ষ চাইলে মামলা করতে পারে। তারা মামলা না করলে পুলিশই আইনি পদক্ষেপ নেবে।


ওসি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।