সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে ধান নিয়ে আনন্দের বদলে কৃষকের কষ্ট ও দুর্ভোগ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী ০৫ মে ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী ০৫ মে ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীতে ধান নিয়ে আনন্দের বদলে কৃষকের কষ্ট ও দুর্ভোগ

যে সময়ে মনের আনন্দে বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার কথা সে সময়ে কষ্ট বুকে চেপে আধাপাকা ধান কেটে আরো বেশি ক্ষতি হওয়ার আগেই ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন ঈশ্বরদীর কৃষক। অসময়ের বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া মাঠের পর মাঠে এবছর বোরো ধানের যে ক্ষতি হয়েছে তা আরো বেশি ক্ষতি যেন না হয় সে জন্য আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে তাদের।


এদিকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টির কারনে অনেক জমির আধাপাকা ধান নুইয়ে পড়েছে পানিতে। এসব নুইয়ে পড়া ধান পানির সঙ্গে ডুবে একাকার হওয়ায় এখনই কেটে ঘরে না তুলতে পারলে ধানের ফলনে আরো ক্ষতি হবে বলে জানান কৃষকরা। তবে এ ধান কাটার পর অর্ধেক ধানেই চিটা ও অপরিপক্ত ধান মাড়াই করলে তাতে চালের আকারও ছোট বলে জানান তারা। কৃষি বিজ্ঞানী ড. সুলতান আলম বলেন, এ ধান মাড়াইয়ের পর যে চাল পাওয়া যাবে সে চালে অপেক্ষাকৃত ৩০ ভাগ পুষ্টি কম পাওয়া যাবে।


মঙ্গলবার (৫ মে) পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়াগোপালপুর এলাকার কৃষক আব্দুস সাত্তার, মো. নুরুজ্জামানসহ কয়েকজন কৃষক কোমর পানিতে প্রায় ডুবে যাওয়া ধান কেটে জমির আইলে তুলে রাখছিলেন। এসময় তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডুবে যাওয়া ধান কেটে পাশের পাকা সড়কে রেখে পানি ঝরিয়ে মাড়াই করার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন তারা। জানা গেছে, এবছর বৈশাখ মাস শুরুর পর থেকে দফায় দফায় অসময়ে বৃষ্টিতে ধানের জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ধান পুরোপুরি পেকে ওঠার আগেই ধান ডুবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।


আরো বেশি ক্ষতি যেন না হয় তা থেকে রক্ষা পেতে ঈশ্বরদীর বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন। সাঁড়াগোপালপুর বিলপাড়ার কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, কমপক্ষে আরো দুই সপ্তাহ পরে কাটতে পারলে পরিপূর্ণ পাকা ধান পাওয়া যেতো। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারনে আগেভাগেই ধান কাটতে হচ্ছে। আধাআধি কাঁচা-পাকা ধানই কাটতে হচ্ছে এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। একই গ্রামের কৃষক মো. নুরুজ্জামান বলেন, কোমর পানিতে ডুবন্ত ধান কেটে প্রথমে জমির আইলে রেখে পানি ঝরিয়ে পরে উঁচু সড়কে রেখে একদিন পর মাড়াই করছেন তারা।


উপজেলার পাকশী, সাঁড়া, সাহাপুর ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, উঁচু জমিতে ধান না কাটলেও নিচু জমিতে পানি জমে যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে তাতে এখনি ধান না কাটলে আরো ক্ষতির মুখে পড়তেহবে, সেকারনে ধান না পাকলেও তা কেটে ঘরে তুলতে হচ্ছে। 


ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল মোমিন বলেন, এ মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ২ হাজার ৭শ’ ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এসব জমির ধান কাটার পিকআওয়ার না হলেও তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে অনেকে আধাপাকা ধান কাটছেন। এতে ধান উৎপাদনে দেশের হাওর অঞ্চলের মত ঈশ্বরদীর কৃষকের বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও উৎপাদনে কিছুটা হেরফের হতে পারে।