রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

কৃষ্ণচূড়ার রাঙা ছোঁয়ায় লালিমায় মোড়া বাগাতিপাড়া

খাদেমুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া ১০ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
খাদেমুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া ১০ মে ২০২৬ ০৯:৩১ অপরাহ্ন
কৃষ্ণচূড়ার রাঙা ছোঁয়ায় লালিমায় মোড়া বাগাতিপাড়া

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এখন যেন প্রকৃতির রঙের উৎসব চলছে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের মাঝেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, গ্রামীণ জনপদ ও পাড়া-মহল্লা সেজে উঠেছে কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায়। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছে ফুটেছে আগুনরাঙা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে লাল, কমলা ও হলুদ রঙের ফুল যেন প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য।


কৃষ্ণচূড়া, যার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া, ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত এক শোভাময় বৃক্ষ। ‘গুলমোহর’ নামেও পরিচিত এই গাছ গ্রীষ্মকালে তার অপরূপ সৌন্দর্যে মানুষকে মুগ্ধ করে। প্রায় ১২ মিটার উচ্চতার এই বৃক্ষ তার বিস্তৃত শাখা-প্রশাখা ও ছায়াময় পরিবেশের জন্যও বেশ জনপ্রিয়।


বর্তমানে বাগাতিপাড়ার প্রায় প্রতিটি সড়কেই চোখে পড়ছে কৃষ্ণচূড়ার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বিশেষ করে উপজেলার বিহারকোল, তমালতলা, লোকমানপুর সহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়ার ফুল পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। অনেকেই গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউবা স্মৃতিবন্দি করছেন মোবাইল ক্যামেরায়।


স্থানীয় ব্যবসায়ী নবাব আলী বলেন, “গরমের দিনে কৃষ্ণচূড়া গাছের ছায়া অনেক স্বস্তি দেয়। এই গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, মানুষকে প্রশান্তিও দেয়।


রবিবার (১০ মে) দুপুরে বিহারকোল এলাকার বেইলি ব্রিজ সংলগ্ন একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়া আতাহার আলী বলেন, “দূর থেকে সাইকেল চালিয়ে এসে খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। গাছের নিচে বসতেই যেন একটু শান্তি পেলাম। মনে হচ্ছে প্রকৃতি নিজেই প্রশান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।”


প্রকৃতিপ্রেমীদের মতে, কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে এসব গাছ ছায়া ও বিশুদ্ধ অক্সিজেন দিয়ে মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।


তবে উদ্বেগও রয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, “আগে রাস্তার দুই পাশে অনেক কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। কিন্তু বৃক্ষ নিধনের কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে একসময় এই সৌন্দর্য হারিয়ে যেতে পারে।” তিনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে বেশি বেশি কৃষ্ণচূড়া গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।


গ্রীষ্মের খরতাপে লাল বেনারসিতে সেজে থাকা কৃষ্ণচূড়া যেন আজও জানান দিচ্ছে প্রকৃতি তার নিজস্ব রঙে বাঁচতে চায়, বাঁচাতে চায় মানুষকেও।