শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঈশ্বরদী ইপিজেডে ১১২ শ্রমিক চাকরিচ্যুত

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ঈশ্বরদী প্রতিনিধি ২২ মে ২০২৬ ১১:২৫ অপরাহ্ন
পূর্বঘোষণা ছাড়াই ঈশ্বরদী ইপিজেডে ১১২ শ্রমিক চাকরিচ্যুত

পাবনার ঈশ্বরদীতে ঈশ্বরদী ইপিজেডে (ঈশ্বরদী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) অবস্থিত জাপানি হ্যান্ড গ্লাভস্ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘তোয়া’ কারখানার ১১২ শ্রমিককে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে ছুটি শেষে তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়। শুক্রবার (২২ মে) ছুটির দিন হলেও ইপিজেড এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। এদিকে পরিস্থিতি শান্ত হলেও এ ঘটনায় ইপিজেডে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ও চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা।


চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আট-নয় বছর ধরে কারখানাটিতে আমরা কাজ করে আসছিলাম। কয়েকদিন ধরে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের গুঞ্জন থাকলেও বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দেওয়ার পর হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পারি। পরে করখানার ফ্লোর ইনচার্জরা তাঁদের শ্রমিকদের মধ্যে ১১২ জনকে স্থায়ীভাবে ছাঁটাইয়ের কথা জানান।


শ্রমিক শিশির আহমেদ বলেন, একজনের চাকরির সামান্য বেতনে সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থায় স্ত্রীও এই কারখানায় চাকরিতে যোগ দেন। প্রতিদিনের মত বৃহস্পতিবারেও দুজন একসঙ্গেই কাজে গিয়েছিলেন। কিন্তু গিয়ে শুনলেন, তাঁদের দুজনেরই চাকরি চলে গেছে, তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। হতাশ শিশির বলেন, এভাবে বিনা নোটিশে দুজনেরই চাকরি চলে গেল। এখন সংসার চালাব কীভাবে? আর ইদের আগে চাকরি হারিয়ে ইদ কীভাবে কাটাবো।


ক্ষুব্ধ অন্যান্য শ্রমিকরা ইদের আগে বিনা নোটিশে চাকরি হারানোর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানান এবং পুনর্বহালের দাবি জানান। একপর্যায়ে কারখানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের তর্কাতর্কি হয়। পরে পুলিশ, আনসার ও নিরাপত্তাকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা হলেও অদক্ষ ও অনিয়মিত কিছু শ্রমিককে প্রভাব খাটিয়ে চাকরিতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশ করলে চাকরি নিয়ে সমস্যা হতে পারে উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক বলেন, কারখানায় আর্থিক সংকট থাকলেও কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির মুখে পড়েছে। দুর্নীতি আড়াল করতেই দক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। 


এদিকে, ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারখানায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ইপিজেডের অভ্যন্তরে স্থাপিত পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) মনিরুল ইসলাম জানান, আর্থিক সংকটের কারণে তোয়া কোম্পানির মোট ৩২০ জন শ্রমিকের মধ্যে ১১২ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে এবং তাঁদের ব্যাংক হিসাবেও টাকা পাঠানো হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।


পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিকে শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পরে তাঁদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ইপিজেডের পরিবেশ কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও এখন শান্ত আছে। তোয়া কারখানার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক মুসলিম ভূঁইয়া বলেন, বেপজার সকল নিয়ম অনুসরণ করে শ্রমিকদের পাওনাদি পরিশোধ করা হয়েছে। কারও কোনো বকেয়া নেই। বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। জাপানি কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, আমরা সেভাবেই কাজ করেছি।