রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ২৩ মে ২০২৬ ০৮:২৯ অপরাহ্ন
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

বকেয়া কোল ফেইস বোনাসের দাবিতে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির শ্রমিক-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত খনির প্রশাসনিক ভবনের করিডরে অবস্থান নিয়ে তারা এ কর্মসূচি পালন করে।


এসময়  বক্তব্য রাখেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্টা ও দিনাজপুর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফরিজার রহমান তপু, সংগঠনের সভাপতি রায়হানুল ইসলাম, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।


আন্দোলনকারীরা জানান, ২০১৫ সাল থেকে তারা নিয়মিত ফেইস বোনাস পেয়ে আসছেন। খনির ভূগর্ভের ১৪০৬ নম্বর কোল ফেইসের কয়লা উত্তোলন জানুয়ারি মাসে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত ওই ফেইসের বোনাস পাননি শ্রমিকরা। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।


তারা আরও জানান, গত ২০ মে পেট্রোবাংলার বোর্ড সভায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোল ফেইস বোনাস অনুমোদন দেওয়া হলেও আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীদের বোনাস অনুমোদন হয়নি। ঈদের আগে বোনাস পেলে পরিবার নিয়ে আনন্দে ঈদ উদযাপন করা যেত। রোববার বোনাস না পেলে খনি গেটেই ঈদের জামায়াতসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।


পরে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল সংগঠনের উপদেষ্টা ফরিজার রহমান তপু, সভাপতি রায়হানুল ইসলাম, সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম নেতৃত্বে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো.শাহ আলম এর সঙ্গে দুই দফায় বৈঠক করেন।


বৈঠকে শ্রমিক নেতারা এমডিকে বলেন, আগামীকাল রোববারের মধ্যে ফেইস বোনাস না পেলে ঈদের দিন খনিতেই নামাজ আদায় করবেন তারা। এ সময় এমডি শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, বোনাস প্রদানের জন্য তিনি কাজ করছেন। রোববার শ্রমিকরা বোনাস পেয়ে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, আগে শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়মিত ফেইস বোনাস পেলেও এবার কিছু জটিলতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে। খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকাদার এক্সএমসি- সিএমসি’র অধীনে বর্তমানে খনিতে ১ হাজার ৫৮ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এদের প্রত্যেককে ৭-৮ হাজার টাকা করে বোনাস দিতে প্রায় ১ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে তিনি জানান।


বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, আগে শুধু বোর্ড মিটিংয়ের অনুমোদনে ফেইস বোনাস দেওয়া হতো। এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। এ কারণে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে রোববার শ্রমিক-কর্মচারীদের বোনাস দেওয়া সম্ভব হবে।