ইদুল আযহায় বগুড়ার পোশাক বিপণিগুলোতে লোভনীয় অফারেও জমছে না কেনাকাটা
পবিত্র ইদুল আযহা উৎসব আসতে আর মাত্র চারদিন বাকি। এমন উৎসব উপলক্ষ্যে অন্যান্য বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েও ক্রেতা মিলছে না কাপড়ের দোকানগুলোতে। বগুড়ার মার্কেট এবং বিপণিবিতানগুলোতে ক্রেতার সংকট চলছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এত ক্রেতা সংকট এর আগে তারা কোনদিন দেখেননি।
ইদুল আজহা উপলক্ষে রকমারি ডিজাইনের নতুন নতুন নান্দনিক সব পোশাকের সমাহার করেছে পোষাকবিপনী বিতানগুলো। আর ইদের আনন্দে রং ছড়াতে রীতিমত প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে সৌন্দর্য পিপাসু ফ্যাশন সচেতন মানুষের দৃষ্টি আর্কষনের কমতি রাখেন বিপনীবিতানের কর্তৃপক্ষরা। ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে দেয়া হচ্ছে লোভনীয় নানা অফার।
বগুড়া শহরের অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত জলেশ্বরীতলার বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি শো-রুমেই ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা টানানো হয়েছে। কোথাও “দুইটি কিনলে একটি ফ্রি”, আবার কোথাও বিভিন্ন ব্যাংকের কার্ড, বিকাশ ও নগদে পেমেন্টে ক্যাশব্যাক অফার দেওয়া হচ্ছে। তারপরও ক্রেতাদের উপস্থিতি খুবই কম। সর্বোচ্চ ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার ও আকর্ষণীয় উপহারের ঘোষণা দিয়েও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে ইদকে সামনে রেখে বেচাকেনা নিয়ে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। বিপণিবিতানের মতো বগুড়ার হকার্স মার্কেট, নিউ মার্কেট, রানা প্লাজা, পুলিশ প্লাজা সবখানেই সাধারণ সময়ের চেয়ে ক্রেতারা কম আসছেন।
শহরের সারা, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, শৈশব, ল্যান্ড, জোস, ফড়িং, লুবনান, প্লাস ও এমবি ফ্যাশনসহ প্রায় প্রতিটি শো-রুমেই নিজস্ব পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ছাড় দেওয়া হয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকলেও অধিকাংশ সময় বিক্রেতাদের অলস বসে থাকতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে কিছু ক্রেতা এলেও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ইদ উপলক্ষে সরকার সম্প্রতি রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দিলেও বাড়তি সময়েও ক্রেতার খরা কাটছে না। মাঝের কিছুদিন সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই বেচাকেনা কম। যে যার মতো করে ছাড় দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ইদ উপলক্ষ্যে ছাড়ের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ নিজেদের সংসারের খরচ তুলতে পারব কিনা তাতেও সন্দেহ রয়েছে।
বগুড়ার শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার সারা, ম্যানস ওয়ার্ল্ড, শৈশব, লেন্ড, জোস, ফড়িং, লুবনান, প্লাস, এমবি ফ্যাশানসহ প্রায় প্রতিটি শোরুমে তাদের নিজস্ব প্রোডাক্টের ওপর সর্বোচ্চ ছাড় দিয়েছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শোরুম খোলা থাকলেও ক্রেতা আসছেন না। মাঝে মাঝে যারা আসছেন তারাও বাজেটের অজুহাতে বের হয়ে চলে যাচ্ছেন।
জলেশ্বরীতলায় সপিং মলগুলোতে পোশাক কিনতে আসা শেরপুরের ইফতেখার আলম ফরহাদ তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে কিছু কেনাকাটা করতে এসেছেন। একজন বেসরকারি চাকুরীজীবি হিসেবে তিনি বলেন, পোশাক কেনার আগ্রহতো রয়েছে। পছন্দসই পোশাকও খুজে পাচ্ছি। অপরদিকে বিপনীগুলোর পক্ষ থেকে অনেক অফার বা ছাড়ও দিচ্ছে, তারপরেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামের উর্দ্ধগতির দিকটা হিসেবে করে মিলাতেই সংকুলান হচ্ছে। তাই নিজের জন্য কিছু না কিলনেও “বাচ্চাটা ও তার মা’র” জন্য হালকা একটু কেনাকাটা করলাম।
এদিকে পোষাক বিপনীগুলো অধিকাংশ বিক্রেতারা জানান, কুরবানির এই ইদে কাপড়ের দোকানে তেমন একটা ভিড় থাকে না। তবে এবারের অবস্থা অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশ কম। একই অবস্থা বগুড়ার নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদেরও। তারা বলেন, এবারের ইদ মার্কেটে ক্রেতাদের চেয়ে দর্শনার্থী বেশি এবং রোজার ঈদের মাঝখানে ক্রেতার সংখ্যা আরও কম ছিল। আমরা লাভের জন্য নয়, খরচ তোলার জন্য সীমিত লাভেও পণ্য বিক্রি করছি। ক্রেতারা আসছেন গজ কাপড়ের দোকান থেকে গরমের কথা মাথায় রেখে হালকা কাপড় কিনছেন। আর শাড়ি, কসমেটিকসসহ আন্যান্য সামগ্রী কিনছেন ইদে ছুটির ফাঁদে বিয়ে আয়োজনের জন্য।
বগুড়া নিউ মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, কসমেটিকসের শোরুমেও ক্রেতা নেই। সারাদিনে হালকা কিছু পণ্য বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে নিউ মার্কেটে এবং শোরুমে আসা ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান কোরবানি ইদে পছন্দের দামি কাপড় কিনতেই হবে এমন ব্যাপার না। তাই সময় করে ঘুরতে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী কিনতে এসেছেন।
তারা বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যের আকাশ ছোঁয়া দাম। গত দুইমাস আগেই অনেক খরচ করে রোজার ইদ পার করেছেন। সেই ধাক্কা যেতে না যেতেই কোরবানির ঈদ। এই ঈদে বেতনের একটা বড় অংশ কোরবানির পশু কিনতে চলে যায়। কাজেই এই ইদে কাপড়ের চেয়ে তাদের কেনার তালিকায় আছে কসমেটিকস, নিত্য প্রয়োজনীয়পণ্য যেমন হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসারকুকার, বাসনপত্র, বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সেগুলোই তারা হিসেব নিকেশ করে কেনাকাটা করছেন।