নওগাঁয় ইটভাটা অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন
অবৈধ ইটভাটা বন্ধ হবে কি?
নওগাঁর মান্দা উপজেলাা একটি ইটভাটা অপসারণের জন্য স্থানীয় কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন। কৃষকদের অভিযোগ ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় বোরো ধান, আমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার ফসল ও ফলদ গাছ রক্ষায় ভাটাটি অপসারণ করতে হবে। ২২ মে সকাল ১১টার দিকে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের মিরপুর এলাকায় নুরজাহান ব্রিকস নামের ওই ইটভাটার সামনেই কৃষকদের মানববন্ধন-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরজাহান ব্রিকসসহ তিনটি ইটভাটার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোনার দেশ পত্রিকায় এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদরা ইটভাটাজনিত আরো ক্ষতির কথা বলেন। তাদের ভাষ্যমতে, ইটভাটার ধোঁয়া ও নির্গত বিষাক্ত গ্যাস মানবস্বাস্থ্য, কৃষিজমি এবং সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এগুলো বায়ুদূষণ, শ্বাসকষ্টজনিত রোগ, গাছপালার ক্ষতি এবং মাটির উর্বরতা হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে। ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ক্ষতিকর ভাসমান বস্তুকণা থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। ধোঁয়ার কারণে অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস ও ফুসফুসের নানা জটিল রোগ দেখা দেয়। শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
ইটভাটা থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২), নাইট্রোজেন অক্সাইড (এনওএক্স) এবং কালো ধোঁয়া ধানের গাছে জমে সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত করে। দূষিত গ্যাস ও ছাই ধানের পাতা ও শীষের ক্ষতি করে। ফলে দানা গঠনে সমস্যা হয়। ইটভাটার উচ্চ তাপমাত্রা ও ধোঁয়ার কারণে মাটির জৈব পদার্থ ধ্বংস হয়, যা ফসলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ধুলাবালি ও ছাই মাটির ওপরে স্তর তৈরি করে, যা মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা ও বায়ু চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। ইট তৈরির জন্য ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নেয়া হয়, ফলে ভবিষ্যতে সেখানে চাষ করা কঠিন হয়ে পড়ে। জমির টপসয়েল নষ্ট হয়ে গেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে শস্য উৎপাদন হ্রাস পায়। অনেক কৃষক জমি হারিয়ে কৃষিকাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৮ অনুযায়ী আবাসিক, সংরক্ষিত ও বাণিজ্যিক এলাকা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা উপজেলা সদর ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ আইন লঙ্ঘন করেই চলছে অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম। এগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।