কামারের দোকানগুলোতে টুংটাং শব্দে বেড়েছে ব্যস্ততা
কামার দোকানগুলোতে কয়লার ধোঁয়া আর লোহা পেটানোর টুংটাংা শব্দ। আর দুইদিন পর পবিত্র ইদুল আজহা। বছরের এই একটি সময়ে কামারদের নিশ্বাস ফেলার ফুরসত থাকে না। লাল হয়ে ওঠা তপ্ত লোহায় হাতুড়ির একেকটি আঘাতে তৈরি হচ্ছে চাপাতি, দা, ছুরি আর বটি।
তবে এই মৌসুমি ব্যস্ততার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘশ্বাস। কামারদের ভাষ্য,, গত এক বছরে কয়লা এবং লোহার দাম অনেকটাই বেড়েছে। বছরের অন্য সময়ে ফাঁকা বসে থাকতো সেখানে কোরবানির ইদকে সামনে রেখে এখন কাজ চলছে গভীর রাত পর্যন্ত।
কারিগররা জানিয়েছেন, ভালো মানের কয়লার দাম আগের তুলনায় বেশ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যে কয়লা ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় কেনা যেত, তা বেড়ে এখন ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। টেকসই ও ভালো ধার ধরে রাখার জন্য কামাররা পুরনো গাড়ির স্প্রিং বা পাতা ব্যবহার করেন। প্রকারভেদ ও গুণগত মান অনুযায়ী এই স্ক্র্যাপ লোহার কেজিপ্রতি খুচরা মূল্য বর্তমানে ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সাহেববাজারের আবদুর রহিম বলেন, একটা ভালো চাপাতি বানাতে যে স্প্রিং লোহা লাগে তার দামই এখন চড়া। কাস্টমাররা ভাবে আমরা বেশি দাম রাখছি, কিন্তু লোহা আর কয়লা কিনতে আমাদের পকেট ফাঁকা হয়ে যায়।
ইদের বাজারে বিভিন্ন ধরনের ছুরি, চাপাতি ও বঁটির চাহিদা বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে এগুলোর দাম মানভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বড় ছুরি আকার ও মান অনুযায়ী ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। মাংস কাটা ও চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ছোট থেকে বড় সাইজের এই ছুরিগুলো ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হালকা চাপাতি ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা ও মাঝারি সাইজের চাপাতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কষ্টের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে নতুন প্রজন্ম আর এই পেশায় আসতে চাইছে না। কারিগর বারাকাত হোসেন ছেলে এবার কলেজে পড়ছে। তিনি বলেন, আমার বাপ-দাদার পেশা আমি ধরে রাখছি। কিন্তু আমার ছেলে এই কষ্টের কাজে আসতে চায় না। এইখানে ভবিষ্যৎ নাই।