শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

এখন থেকে আজিমনগর স্টেশনে থামবে চিলাহাটি এক্সপ্রেস

নাটোর প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২৬ ১০:২৫ অপরাহ্ন
এখন থেকে আজিমনগর স্টেশনে থামবে চিলাহাটি এক্সপ্রেস

বহুদিনের প্রত্যাশা পুরণে বাস্তবে রূপ  নেচ্ছ নাটোরের লালপুরবাসী। এখন থেকে নাটোরের আজিমনগর রেলস্টেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রাবিরতি করবে আন্তঃনগর চিলাহাটি এক্সপ্রেস। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল- ২৬ মে  মঙ্গলবার ঢাকা থেকে চিলাহাটি এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী হয়ে আজিমনগর রেলস্টেশনে পৌঁছাবেন। 


নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৮০৫ ও ৮০৬ নম্বর চিলাহাটি এক্সপ্রেস উভয় দিকেই আজিমনগর রেলওয়ে স্টেশনে দুই মিনিটের জন্য থামবে। এই অনুমোদন বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী পুতুলের এপিএস আব্দুস সালাম।  


এদিকে এ খবরে পুরো উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও আনন্দের বন্যা। এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। 


লালপুরবাসীর কাছে এটি শুধু একটি ট্রেনের স্টপেজ নয়; এটি আবেগ, ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গর্বের অর্জন। কারণ, একসময় সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল লালপুরবাসীর জন্য চালু করেছিলেন লালমনি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি। আর এবার তারই কন্যা, প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এনে দিলেন চিলাহাটি এক্সপ্রেসের স্টপেজ।


এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র এখন উচ্চারিত হচ্ছে একটি আবেগঘন বাক্য-“বাবা দিয়েছিলেন লালমনি এক্সপ্রেস, মেয়ে দিচ্ছেন চিলাহাটি এক্সপ্রেস।”


স্থানীয়দের মতে, আজিমনগর স্টেশনে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি চালু হলে লালপুর উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও রোগীদের যাতায়াতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমাবে।


ইতোমধ্যে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি উপলক্ষে নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়েছে আজিমনগর রেলস্টেশন। স্টেশনজুড়ে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রস্তুতির কাজ। পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।


প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলের আগমন উপলক্ষে আজিমনগর স্টেশন পরিদর্শন করেন মোঃ বরকতউল্লাহ, মোঃ আবির হোসেন, মোঃ হারুনার রশিদ (পাপ্পু), মোঃ নজরুল ইসলাম মোলাম এবং মোঃ আব্দুল আজিজ রনজুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


স্থানীয়রা বলছেন, এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং লালপুরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এখন পুরো উপজেলার মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য, যখন প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চিলাহাটি এক্সপ্রেস থামবে তাদের প্রাণের আজিমনগর রেল স্টেশনে।