ঈশ্বরদীতে পিটিয়ে প্রতিবেশীকে হত্যা ‘সংবাদ সম্মেলনে দাবি হার্ট অ্যাটাক’
পাবনার ঈশ্বরদীর সাহাপুরে ছাগলে সজিনার পাতা খাওয়া ও বাড়ির আঙিনা নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই ভাই মিলে মহাবুল হোসেন প্রামানিক (৬০) নামের এক প্রতিবেশীকে বাঁশের বাতা দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাহাপুর পূর্ব পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাহাবুল হোসেন ওই এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় মিষ্টি ব্যবসায়ী ছিলেন। এদিকে সোমবার (২৫ মে) সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিপক্ষ দাবি করেছেন, পিটিয়ে হত্যা নয়, হার্ট এ্যাটাকে মারা গেছেন মহাবুল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মহাবুলের একটি ছাগল প্রতিবেশী মো. বাশার মুন্সি ও তার বড় ভাই মো. তসলিম মুন্সির সজিনা গাছের পাতা খেয়ে নষ্ট করেছে এমন অভিযোগে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, বাগবিতন্ডার পর হাতহাতি থেকে মারামারি বাধে। এক পর্যায়ে বাশার মুন্সি ও তসলিম মুন্সি দুই ভাই মিলে মহাবুলকে কিল ঘুষি এবং বাঁশ দিয়ে পেটালে তিনি গুরুতর আহত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। মারপিট ও চেঁচামেচি শুনে প্রতিবেশী ও স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মহাবুলের মৃত্যু হয়েছে বলে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. কাবেরী সাহা নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, এ ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত অভিযুক্ত আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার আবুল কাশেম মুন্সির ছেলে। এদিকে এ হত্যাকান্ড নিয়ে গতকাল সোমবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহাবুল প্রামানিককে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত তছলিম উদ্দিন ও আবুল বাসারের পরিবার। তছলিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. মনিরা খাতুন জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাহাপুর আজিজল তলা এলাকায় একটি হত্যাকান্ড নিয়ে আমার স্বামী মো. তছলিম উদ্দিন, তার ভাই আবুল বাসার এবং আমার তিন ছেলেকে জড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। মনিরা খাতুন দাবি করেন মহাবুল কাঁঠাল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঘটনাচক্রে তিনি ঝগড়া বিবাদের স্থানে পৌঁছানোর আগেই রাস্তার পাশে পড়ে যান। গাছের পাতা ছাগলকে খাওয়ানো নিয়ে ঝগড়া বিবাদের এক পর্যায়ে অসুস্থ মহাবুল ইসলাম হার্টএ্যাটার্কে আক্রান্ত হয়ে মারা যান অথচ তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়েছে। আমাদের পরিবার নিয়ে এই মিথ্যা ভিত্তিহীন মামলা সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মধ্য দিয়ে এই মিথ্যা মামলার এর নিস্পত্তি চাই আমরা। সংবাদ সম্মেলনে আসামী আবুল বাসারের স্ত্রী আশা খাতুন, মো. তছলিম উদ্দিন এর শ্যালক ইসমাইল হোসেনসহ পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।