শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

শিবগঞ্জে কামারশালায় ব্যস্ত প্রায় তিনশো কর্মকার

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ মে ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শিবগঞ্জে কামারশালায় ব্যস্ত প্রায় তিনশো কর্মকার

ইদুল আজহাকে কেন্দ্র করে গরু ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তেমনি কোরবানির পশু বা গরু ছাগল ক্রয় করা নিয়ে ব্যস্ত ক্রেতারা। এ কোরবানি জবেহ ও  মাংস তৈরির জন্য হাতিয়ারে ধার দেয়া ও তৈরি কৃত হাতিয়ার বিক্রি করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে শিবগঞ্জ উপজেলা ১৫টি উপজেলা ও ১ পৌরসভার প্রায় তিনশ কামার। 


অন্যদিকে গ্রাহকরার কর্মকারের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে নিজ নিজ হাতিয়ারে ধার দিয়ে নেয়। গত দুইদিন ধরে উপজেলার মনাকষা, মোবারকপুর, চককীতি, পাঁকা ও বিনোদপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের হাতিয়ারে ধার দিতে ব্যস্ত কামারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরের ন্যায় তারা এবারও ইদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু জবেহ ও মাংস তৈরি করার জন্য ছুরি ও হাসুয়া ও কোপতা তৈরি ও ধার দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মত ইদুল আজহার উপলক্ষে তাদের  জন্য একটি মৌসুম হিসাবে কাজ করে। এ  সময় তারা কোরবানির পশু জবেহ করার জন্য ছোড়া ও মাংস তৈরির করার জন্য হাসুয়া, বটি, দা ও কোপতা তৈরি করে ও ধার দিয়ে থাকে। 


মনাকষা ইউনিয়নের কামার দিলীপ ও বিফল জানান, তারা বর্তমানে ভোর ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত  হাতিয়ার তৈরি ও ধার দিতে কাজ করছেন। হাতিয়ারে ধার দিতে ছুরি প্রতি ৫০ টাকা, হাসুয়া প্রতি ৭০ টাকা, দা প্রতি ১০০ টাকা, কোপতা প্রতি ১৫০ টাকা পারিশ্রমিক হিসাবে নেয়। 


বিফল আরো জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩০টি হাতিয়ার ধার দিতে থাকি। তাতে আয় হয় গড়ে ২৫০০ টাকা। তিনি আরো জানান, আমরা গৃহস্থের সাথে যেহেতু বছর হিসাবে চুক্তি কাজ করে থাকি, সেহেতু এ মৌসুমে অনেককে বিনা টাকাতে হাতিয়ারে ধার দিয়ে দিতে হয়। চুক্তিভিত্তিক গৃহস্থদের নিকট হতে বছরে তিনবার ফসল পেয়ে থাকে। ওই সময় তারা সারা বছরের খাবার খরচ পেয়ে থাকে। একই কথা বললেন মনাকষার পেশাগত কামার স্বাধীন কর্মকার,দিলীপ কর্মকারসহ আরো ৭/৮জন কর্মকার।


অন্যদিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের পলাম কর্মকার জানান,আমি প্রতিদিন প্রায় ৪০টি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ারে ধার দিয়ে থাকি। পারিশ্রমিক বাবদ আয় হয় ৩৫০০ টাকা। এ মৌসুমে প্রায় ২০দিন এভাবে কাজ করতে পাই। তাতে আমার আয় হয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা। মোবারকপুর  ইউনিয়নের নিমাই কর্মকার, অশীন কর্মকার, ডালিম কর্মকার সহ প্রায় ৭/৮জন একই ধরনের কথা জানাই। চককীতি ইউনিয়নের কমল কর্মকার বলেন, প্রতি ইদুল আজহার মৌসুমে আমি হাসুয়া,বটি, কোপতা, দা-ছুরি তৈরী করে বিক্রি করে থাকি। প্রতিটি দা ৪শ থেকে ৫শ টাকায়, হাসুয়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, বটি ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, ছুরি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় এবং কোপতা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। প্রতিদিন প্রায় ৫০টি বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার বিক্রি করে থাকি। তাতে আমার খরচ বাদে আয় হয় দৈনিক ৫০০ টাকা। তবে এ আয় ক্ষণস্থায়ী। ইদুল আজহার এ মৌসুমে প্রায় ২০/২৫দিন এ ব্যবসা চলে। অন্যদিকে উপজেলার  বিভিন্ন হাট বাজারেও শতাধিক কর্মকার বিভিন্ন হাতিয়ার বিক্রি করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। হাতিয়ারের দোকানে মানুষ লাইন ধরে বিভিন্ন ধরনের হাতিয়ার ক্রয় করছে। 


এ ব্যাপারে শাহাবাজপুর ্ইউপি চেয়ারম্যান নিজামুর হক ও মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক হায়দারী ও শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রবিউল আলম সহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানগণ জানান, এটি শিবগঞ্জের ঐতিহ্য। প্রতিবছরই ইদুল আজহার সময় প্রায় ৩শ কর্মকার প্রায় একমাস ধরে ব্যস্ত সময় পার করে থাকে।