শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

তানোরে এগ্রোইকোলজি নেতৃত্ব সম্মাননা পেলেন ২২ জন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুন ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ০৪ জুন ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন
তানোরে এগ্রোইকোলজি নেতৃত্ব সম্মাননা পেলেন ২২ জন

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা, কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং দেশীয় বীজ রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় ২২ জন কৃষক, কৃষাণী, সংগঠক ও পরিবেশকর্মীকে ‘এগ্রোইকোলজি লিডারশিপ সম্মাননা’ প্রদান করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক।


বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পৌরসভার ময়েনপুর গ্রামে প্রায় পাঁচ শতাব্দী প্রাচীন একটি বটবৃক্ষের ছায়াতলে আয়োজিত ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেওয়া হয়। প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও কৃষির ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রতীক হিসেবে প্রাচীন এই বটগাছের নিচে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাইফুল্লাহ আহম্মদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাচীন বটবৃক্ষের সুরক্ষাকারী আলহাজ্ব মো. মফিজ উদ্দিন, আলহাজ্ব মো. আব্দুল লতিফ, আলহাজ্ব মো. আলী আফজাল খাঁ এবং গ্রীন কোয়ালিশন পবা উপজেলা শাখার সভাপতি মোসা. রহিমা বেগম। অনুষ্ঠানের শুরুতে এগ্রোইকোলজি চর্চা, কৃষকদের অবদান ও বারসিকের কার্যক্রম নিয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের বরেন্দ্র অঞ্চলের সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম।


বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিপর্যয় এবং কৃষির ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় এগ্রোইকোলজি একটি কার্যকর ও টেকসই পথ। স্থানীয় জ্ঞান, দেশীয় বীজ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এগ্রোইকোলজি শুধু কৃষিকে নয়, পরিবেশ ও মানুষের জীবনকেও সুরক্ষিত করে।


অনুষ্ঠানে ২০টি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বীজ বৈচিত্র্য সুরক্ষা ও প্রসারে বিশেষ অবদানের জন্য তানোরের কৃষক মো. জায়দুর রহমান, খরাসহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনের জন্য কৃষক নূর মোহাম্মদ, কমিউনিটি বীজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য পবার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের কৃষাণী মোসা. সুলতানা খাতুন, এগ্রোইকোলজি চর্চা ও প্রসারে অবদানের জন্য কৃষক জিতেন্দ্রনাথ সূত্রধর, পরিবেশবান্ধব উন্নত চুলা উদ্ভাবন ও প্রসারে অবদানের জন্য কবুলজান বেগম এবং জৈব বালাইনাশক তৈরি ও প্রসারে অবদানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষাণী মোসা. সাহানা বেগম সম্মাননা লাভ করেন।


এছাড়া বৃক্ষরোপণে অবদানের জন্য মো. আলমাস আলী, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মো. আব্দুল হামিদ, পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় মোসা. বিলকিস বেগম, পাখি সুরক্ষায় মো. মুনসুর আলী, বৈচিত্র্যময় খাদ্য সুরক্ষায় পরি টুডু, গ্রীন ওমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডে মোসা. রহিমা বেগম এবং নগরের পুকুর-জলাধার সুরক্ষায় অবদানের জন্য ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস)-এর সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান সম্মাননা পান।


বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ সংরক্ষণে আব্দুর রহিম, ছাদকৃষিতে সোহাগ আলী, অচাষকৃত উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে মোসা. শ্যামলী বেগম, স্কুল পর্যায়ে বীজ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা ও নবীনদের মধ্যে কৃষিপ্রাণবৈচিত্র্য বিষয়ক জ্ঞান প্রসারে তালন্দ আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়, দেশীয় বীজ বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বিনিময়ে মোসা. সেতারা বেগম, প্রাচীন বৃক্ষ সুরক্ষায় যৌথভাবে আলহাজ্ব মো. মফিজ উদ্দিন, আলহাজ্ব মো. আব্দুল লতিফ ও আলহাজ্ব মো. আলী আফজাল খাঁ এবং বৈচিত্র্যময় ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও লোকচিকিৎসায় অবদানের জন্য কবিরাজ আব্দুল করিমকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।