রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

দুর্গাপুরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার এক গৃহবধূ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
দুর্গাপুর প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার এক গৃহবধূ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা গণকৈড় গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের এক যুবলীগ নেতাসহ চারভাই এক গৃহবধূকে মারপিট করে আহত করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে ওই গৃহবধূকে যুবলীগ নেতাসহ চারভাই ব্যাপক মারপিট করে আহত করে। আহত গৃহবধূর নাম মুরশিদা খাতুন (৩৫)। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার গণকৈড় গ্রামের হাফিজুর রহমানের স্ত্রী। আহত মুরশিদাকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এব্যাপারে গৃহবধূ মুরশিদার বাবা বাদি হয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।


অভিযুক্ত যুবলীগ নেতারা হলো, দুলাল হোসেন (৪০), তার বড় ভাই আবেদ আলী (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৪১) ও সাখাওয়াত অরফে সাকা (৩৫)। তারা সবাই একই এলাকার আবুল কাসেমের ছেলে। দুলাল কিশমত গহণকৈড় ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। এছাড়াও যুবলীগ নেতা দুলাল বাগমারার সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ক্যাডার হিসাবে পরিচিত।


স্থানীয়দের ভাষ্য ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূর মুরশিদা খাতুন বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে বাড়ির পাশে তাদের আম বাগানে আম পাড়তে যান। এসময় যুবলীগ নেতা দুলাল, তার ভাই আবেদ আলী, সাইফুল ইসলাম, সাকা গৃহবধূর মুরশিদাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এসময় গৃহবধূর মুরশিদা খাতুন তাদের গালাগালি করতে নিষেধ করলে যুবলীগ নেতা দুলাল প্রথমে তাকে মারপিট শুরু করে।


এরপর সেখানে উপস্থিত অপর তিনভাই আবেদ, সাইফুল, সাকাও দুলালের সাথে গৃহবধূর মুরশিদাকে মারপিট করে। তারা গৃহবধূর মুরশিদাকে ব্যাপক মারপিট করার পর তিনি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও পুনরায় তাকে মারপিট করা হয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি বুঝতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত গৃহবধূর মুরশিদাকে দ্রুত উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায়।


স্থানীয়রা বলছেন, দুলাল দুর্গাপুর উপজেলার ২নং কিশমত গণকৈড় ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে ওই গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও বছর না পেরোতেই আবারো গ্রামের মানুষের উপর সে অত্যাচার,নির্যাতন শুরু করে। এই যুবলীগ নেতার দাপটে গ্রামের সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ।


তবে স্থানীয়রা বলছেন, কথিত কিছু বিএনপির নেতাকর্মীদের সেল্টারে যুবলীগ নেতা দুলাল বেপরোয়া। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় তাহেরপুর বাজারে ছাত্র-জনতার উপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। যুবলীগ নেতা দুলাল বাগমারার সাবেক এমপি আবুল কালামের ক্যাডারদের সাথে হামলায় অংশ নেয়। এছাড়াও কালামের ক্যাডারদের সাথে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানান ঘটনার সাথে যুক্ত। এমনকি তাহেরপুরে এক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগেও তাকে বাগমারা থানা পুলিশ আটক করে। পরে অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।


এব্যাপারে দুর্গাপুর থানার এসআই মাহবুবুর হাসান মুরাদ জানান, গৃহবধুকে মারপিটের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।