নগরীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র্যালি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগরীতে পৃথকভাবে র্যালি বের করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শনিবার (৬ জুন) বেলা ১১ টায় নগর ভবনের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। এরপর মহানগরীর দড়িখরবোনা মোড়, কাদিরগঞ্জ হয়ে পুনরায় নগর ভবনে চত্বরে গিয়ে র্যালিটি শেষ হয়। র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন। র্যালি শেষে নগর ভবন চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন রাসিক প্রশাসক। এ সময় নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ডেঙ্গু একটি মারাত্মক মশাবাহিত রোগ হলেও সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, নিজেদের পরিবার ও প্রিয় নগরীকে সুরক্ষিত রাখতে সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজশাহী সিটি করপোরেশন আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। ডেঙ্গমুক্ত রাজশাহী মহানগরী গড়ে তুলতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজ আঙ্গিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এ সময় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান রাসিক প্রশাসক।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুশাসন অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে এবং নাগরিক সেবা সুনিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিপূর্বে হাম-রুবেলা মোকাবেলায় আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। এবার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্ষার আগে মশক নিধনে দুই সপ্তাহব্যাপী ফগার মেশিনে স্প্রে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
র্যালিতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুল আলম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমদ আল মঈন, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ-সাঈদ, রাসিকের ২৫ ও ২৮নং ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, রাজশাহীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাকসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিডিসি‘র সদস্যবৃন্দ, ওয়ার্ড সচিব, স্বাস্থ্যকর্মীবৃন্দ ও রেড ক্রিসেন্ট ও বিডিক্লিনের স্বেচ্ছাসেবীবৃন্দ অংশগ্রহণ করে।
অন্যদিকে ‘আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজশাহীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক র্যালি করেছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল।
শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় রামেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সচেতনতামূলক এই র্যালিটি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালি শেষে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। ‘ডেঙ্গুমুক্ত রাজশাহী’ তথা ‘ ডেঙ্গুমুক্ত বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে।
তিনি আরও বলেন, রোগ ছড়ানোর আগেই তা নির্মূল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রতি শনিবার সকল অফিস-আদালতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে। এই কার্যক্রম কেবল শহর বা সরকারি অফিসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত তা বিস্তৃত করা হবে। পাশাপাশি সকল ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকেও এই পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নাগরিকদের নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, কোথাও যেন পানি জমতে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যদি নিজ নিজ নাগরিক দায়িত্ব পালন করি, তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব একেবারে নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব।
এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সাংবাদিকদেরও এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
র্যালিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবির, পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম। এছাড়াও রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এই র্যালিতে অংশ নেন।