রবিবার, জুন ২১, ২০২৬

বিকেলে নিখোঁজ, রাতে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার ৭ বছরের শিশুর লাশ

প্রতিবেশী দম্পতি গ্রেপ্তার, বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় আহত আসামি
রাকিবুল হাসান, আদমদীঘি ১২ জুন ২০২৬ ০১:১৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাকিবুল হাসান, আদমদীঘি ১২ জুন ২০২৬ ০১:১৫ অপরাহ্ন
বিকেলে নিখোঁজ, রাতে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার ৭ বছরের শিশুর লাশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌর এলাকার সাহেবপাড়া মহল্লায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ৭ বছর বয়সী শিশু রাকার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় অভিযুক্তরা আহত হন এবং পুলিশি গাড়িতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় একটি নূরানী মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকা প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার কথা থাকলেও সে সেখানে পৌঁছায়নি। পরে তার ফুফু শিক্ষিকার কাছে খোঁজ নিতে গেলে জানা যায়, রাকা সেদিন পড়তে যায়নি।


এরপর পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো সন্ধান না পেয়ে রাকার বাবা রায়হানকে খবর দেওয়া হয়। তিনি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মোটর মেকানিক হিসেবে কর্মরত। বাড়িতে ফিরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও মেয়েকে না পেয়ে স্থানীয়দের পরামর্শে আদমদীঘি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।


এদিকে রাকাকে খুঁজতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় যুবক প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের আচরণে সন্দেহ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং ঋণগ্রস্ত অবস্থায় থাকলেও ঘটনার দিন হঠাৎ করে প্রচুর বাজারসদাই ও স্ত্রীর জন্য নতুন কাপড় কিনে আনেন। তার এই আচরণ সন্দেহের সৃষ্টি করে।


সন্দেহের ভিত্তিতে স্থানীয় কয়েকজন যুবক আমজাদের বাড়িতে তল্লাশি চালালে একটি কক্ষে ব্রয়লার মুরগির খাঁচার পাশে রাখা পোল্ট্রি ফিডের বস্তা দেখতে পান। বস্তার মুখে থাকা পুরোনো কাপড় সরিয়ে ভেতরে রাকার নিথর দেহ দেখতে পেয়ে তারা হতবাক হয়ে যান। মরদেহটি বস্তার মধ্যে দুমড়ে-মুচড়ে রাখা ছিল।


খবর পেয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিছুক্ষণ পরেই আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন ও আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন।


পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় এবং আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে।


তবে গ্রেপ্তারের সময় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। একপর্যায়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল ভ্যানের সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ জণগণ।  পরে সান্তাহার প্রেসক্লাবের কয়েকজন সদস্য ও স্থানীয় যুবদল নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় রাত প্রায় ১টার দিকে গ্রেপ্তারকৃতদের নিরাপদে আদমদীঘি থানায় নেওয়া সম্ভব হয়।


এই প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী চিকিৎসাধীন ছিলেন। জনতার মারধরে তারা আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দুই শিশু সন্তানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।


আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আসিফ হোসেন জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শজিমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার ঘটনাটির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।