শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বজ্রপাতে প্রবণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ

সোনার দেশ ২২ জুন ২০২৬ ১১:১৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২২ জুন ২০২৬ ১১:১৮ অপরাহ্ন
বজ্রপাতে প্রবণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ

প্রাণহানি রোধে চাই সতর্কতা

বর্তমানে বজ্রপাতপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ২০২১ সালে পদ্মা নদীতে বরযাত্রীবাহী একটি নৌকায় বজ্রপাত হলে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। যা এই জেলার ইতিহাসে একক বজ্রপাতে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া গত ২২ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ৯ জনই আম সংগ্রহ কিংবা ঝড়ে পড়া আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতের শিকার হয়েছেন। এই নিয়ে সোমবার (২২ জুন) সোনার দেশ পত্রিকায় ‘বজ্রপাতে প্রবণ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ’-শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে উল্লেখ্য যে, আবহাওয়া অধিদফতর ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্যের কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ জেলা।


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি এলাকা ও হিমালয়ের পাদদেশে সৃষ্টি হওয়া বজ্রমেঘ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে রাজশাহী অঞ্চলে প্রবেশ করে। স্থানীয় জলীয় বাষ্পের সঙ্গে মিলিত হয়ে এসব মেঘ আরও শক্তিশালী হওয়ায় এ অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এজন্য বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে সরকার জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৬টি বজ্রনিরোধক মেশিন  স্থাপন করে। প্রতিটি মেশিনে ব্যয় হয় প্রায় ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ টাকা। তবে এসব যন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। জেলা পর্যায়ে এগুলো কতবার বজ্রপাত প্রতিরোধ করেছে বা বর্তমানে সচল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। তাই এবিষয়ে প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষজ্ঞের অভাবে নিয়মিত তদারকি করা উচিত।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এপ্রিল থেকে জুন বজ্রপাত বেশি হয়। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুসারে, প্রতি বছর বজ্রপাতে প্রায় দেড়শো মানুষ মারা যান। বেশিরভাগ ঘটনা ঘটে হাওর এলাকায়। সরকার ২০১৬ সালে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের তুলনায় বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন বেশি।


বজ্রপাত আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে সতর্ক হলে এতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কোন মাসে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি, কোন এলাকায় বিপদ বেশি সেই তথ্য আবহাওয়া বিভাগের কাছে আছে। সতর্কতার নিয়মকানুনও জানা। এখন জরুরি হচ্ছে, বজ্রপাত প্রতিরোধে এই জ্ঞান সাধারণ মানুষের কাছে, বিশেষত হাওর অঞ্চলের কৃষকদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছানো।


বজ্রপাতের সময় কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি কমে। খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়া, উঁচু গাছ বা ধাতব বস্তুর কাছাকাছি না যাওয়া, কংক্রিটের ছাউনির নিচে আশ্রয় নেয়া, রাবারের জুতা পরা প্রভৃতি সতর্কতা অবলম্বন করলে বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বজ্রপাতপ্রবণ এলাকার কৃষক ও জেলেদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।


নেপাল বজ্রপাতজনিত হতাহত কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। সাফল্যও পেয়েছে দেশটি। তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। আবহাওয়া সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।  চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও হাওর এলাকায় সুরক্ষা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। এতে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করতে চাই।