শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে

সোনার দেশ ২৩ জুন ২০২৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৩ জুন ২০২৬ ১১:৪৩ অপরাহ্ন
দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে

সুরক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে কে পৌঁছাবে?

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এক দশক আগেও বজ্রপাতকে বাংলাদেশে ভয়াবহ প্রাণঘাতী দুর্যোগ হিসেবে দেখা হতো না। বর্তমান সময়ে বজ্রপাত এক ভয়ঙ্কর দুর্যোগের নাম। বজ্রপাতে মৃত্যুহার বাড়লেও প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কোনো উদ্যোগ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যে বজ্রপাত নিয়ে অজ্ঞনতা দূর করারও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় না। 


বাংলাদেশে প্রতিবছর বজ্রপাতে গড়ে তিনশো মানুষের মৃত্যু হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশই কৃষক। ২০২৪ সালে ‘বাংলাদেশে বজ্রপাত পরিস্থিতির জিআইএস ভিত্তিক বিশ্লেষণ’ শিরোনামে এক গবেষণায় বলা হয়, বজ্রপাতে প্রাক-বর্ষা ও বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। গবেষণা তথ্যমতে, ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক দশকে দেশে বজ্রপাতে সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সে হিসাবে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭৪৬ জনের। পরিসংখ্যান বলছে, সবশেষ এক দশকে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা দেশের মোট প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মৃত্যুর এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। তবে ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা বেঁচে যান, তাদের অনেকেই পক্ষাঘাত, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, স্মৃতিভ্রংশ ও যৌনক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যায় ভোগেন।


ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আবহাওয়ার ধরন বদলে যাচ্ছে। আর তাই দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ ও মৌসুমের পরিবর্তে দেশে বাড়ছে বজ্রপাতের সংখ্যা।


বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর হার বাড়ার কারণ এবং কৃষকদের ঝুঁকি সম্পর্কে সকর্তিকরণ কর্মসূচির গুরুত্ব বলার অপেক্ষা রাখে না। বজ্রপাত নিয়ে যা কিছু আলোচনা হচ্ছে- তা মোটেও তৃণমূল মানুষের কাছে গিয়ে পৌঁছাচ্ছে না। যার প্রতি অধিক মনোযোগী হওয়া উচিৎ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আরকানছ বিশ্ববিদ্যালয়, পাইনব্লাফ-এর অধ্যাপক, পদার্থ বিজ্ঞান, ড. এম.এম আদেল তার এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, বজ্রপাতপ্রবণ সময়ে একান্তই বাইরে যেতে হলে কোনো রকম সামান্যতমও ধাতব পদার্থের তৈরি জিনিসপত্র সঙ্গে রাখা যাবে না। যে কোনো ধাতব বন্তু বজ্রাঘাতের সহায়ক। মাঠের শ্রমিকরা কার্বন-ইস্পাতের তৈরি কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেন। এসব কার্বন-ইস্পাতের তৈরি সরঞ্জাম লোহার তৈরি সরঞ্জাম থেকে প্রায় ৭০ ট্রিলিয়ন গুণ কম বিদ্যুৎ অপরিবাহী। 


অর্থাৎ সাধারণ মানুষদের সচেতন করা গেলেই বজ্রপাতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ লক্ষণীয় নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বজ্রপাতের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বজ্রপাত থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায়গুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেয়া খুবই জরুরি।