শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মাদক পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস আজ

সোনার দেশ ২৫ জুন ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৫ জুন ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ন
মাদক পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস আজ

সামাজিক প্রতিরোধে সমস্যা কোথায়?

আজ ২৬ জুন। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো- মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। অবৈধ মাদক পাচার ও ব্যবহার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। মাদকাসক্তদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন ও তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া। বাংলাদেশেও দিবসটি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হয়ে আসছে।


বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মাঝে সরকারি অনুদানের চেক বিতরণ’ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্যমতে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ের একটি গবেষণার ফলাফলে উঠে এসেছে, দেশে বর্তমান ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাদক ব্যবহার করছেন। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। নতুন সিনথেটিক ও সেমি সেনথেটিক মাদকের আবির্ভাবের ফলে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে।


বাংলাদেশ মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের রুট গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট এবং গোল্ডেন ওয়েজের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান হওয়ায় এমন ঝুঁকিতে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দেশের ৩২টি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে। এসব জেলার অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে চার দশকের বেশি সময় ধরে দেশে প্রচলিত ও অপ্রচলিত মাদক দেশে আসছে। কিন্তু মাদক চোরাচালানের রাশ ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। বরং মাদকের চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বেড়েছে। 


মাদকের বিরুদ্ধে দেশে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ থাকলে তা সম্ভব হয় নি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মাদক প্রতিরোধের উপায় হিসেবে যা কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে- তার বাস্তবিক কোনো সাফল্য লক্ষণীয় নয়। অর্থাৎ পদক্ষেপগুলো কার্যকর করা যায় নি। যে সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান হয়- সে সীমান্তগুলো মাদক প্রতিরোধ করে গড়ে তোলা যায় নি। সীমান্তের অধিবাসীদের মাদক প্রতিরোধে সম্পৃক্ত করাও যায় নি। মাদকের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের চিহ্নিত করা যায় নি।


মাদকের স্বার্থন্বেষীরা সমাজের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্বও দিয়ে থাকে। ফলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলাও সহজ হচ্ছে না। অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক মাদক মামলা বিচারাধীন থাকায় বিচার ব্যবস্থা ধীরগতির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি মাদক সিন্ডিকেটগুলোর পক্ষেই যাচ্ছে। আশংকাজনকভাবে মাদক সিন্ডিকেটগুলো আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। মাদক প্রতিরোধে কৌশলগত দক্ষতা ও সক্ষমতার যে ঘাটতি আছে- তার সমাধান করা জরুরি। একই ভাবে সামাজিক প্রতিরোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।