শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মিলিমিটারের ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গের পর যন্ত্রণাময় অপেক্ষায় ইরান

সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ জুন ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ডেস্ক ২৭ জুন ২০২৬ ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
মিলিমিটারের ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গের পর যন্ত্রণাময় অপেক্ষায় ইরান

গোল, পেনাল্টি মিস, গোল। ঘটনার ঘনঘটায় প্রথম ১৫ মিনিটেই ম্যাচে উত্তেজনা তুমুল। তবে শেষ সময়ে যা হলো, সেই নাটক হার মানাল যেন সবকিছুতেই। ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ে গোল করে বাঁধনহারা উল্লাসে মেতে উঠল ইরান। স্মরণীয় এক জয়ে তখন প্রথমবার নকআউটের দুয়ারে তারা। কিন্তু সেই উল্লাস থেমে গেল দ্রুতই। ভিএআর জানাল, অফসাইড ছিলেন শোজা খালিলজাদেহ। অটোমেডেট রিপ্লেতে দেখা গেল, তার পায়ের এক পাশের সামান্য একটু অংশ ছিল অফসাইড!

স্মরণীয় সাফল্য আর হৃদয়ভঙ্গের যন্ত্রণাল ব্যবধান মাত্র কয়েক মিলিমিটারই! একটু পর তা স্পষ্ট হলো আবার। ইরানের আলিরেজা জাহানবাখশের হেড লাগল ক্রসবারে। শেষ পর্যন্ত আর হলোই না।

জিতলেই প্রথমবার নকআউটে পৌঁছে যেত ইরান। বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে মিশরের সঙ্গে তাদের লড়াই শেষ হলো ১-১ গোলে।

মিশর ৯২ বছর পর নকআউটে খেলা নিশ্চিত করেছিল আগেই। একই সময়ে আরেক ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে গ্রুপের সেরা হয়েছে বেলবিজয়াম।

তিন ম্যাচে তিন ড্রয়ে তিন পয়েন্ট পাওয়া ইরানের অপেক্ষা এখন সেরা তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির একটি হওয়ার।

ম্যাচের শুরুটা ছিল দারুণ প্রাণবন্ত। ইরান শুরু থেকেই আক্রমণে উঠতে থাকে। অন্যদিকে মিশরও ভালোভাবে বল আদান-প্রদান করে গুছিয়ে নেয়। গোলও পেয়ে যায় তারা দ্রুত।

পঞ্চম মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে মাহমুদ ত্রেজেগের সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় এগিয়ে গিয়ে বাঁ পায়ের শট নেন মোহামেদ সালাহ। ইরানের গোলকিপার আলিরেজা বেইরনভান্ড বল ঠেকালেই মুঠোয় নিতে পারেননি। ফিরতি বল ধরে আলিরেজার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন সবের।

অষ্টম মিনিটে ইরানের একটি বিপজ্জনক আক্রমণ রুখে দেন মোহামেদ হেনি। তবে পরের মিনিটেই পেনাল্টি পেয়ে যায় ইরান।

গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করছিলেন তারেমি। বাধা দিতে গিয়ে তার পায়ের অগ্রভাগে মেরে বসেন মোহামেদ আব্দেলমোমেন। কোনো দ্বিধা না করে পেনাল্টি দেন রেফারি। শট নেন তারেমি নিজেই।

তার শটে জোর ছিল বেশ, তবে গোলকিপারকে বিভ্রান্ত করতে পারেননি। বাঁদিকে ঝাপিয়ে দারুণভাবে আটকে দেন গোলকিপার মোস্তাফা শুবির।

একটু পরই অবশ্য গোল পেয়ে যায় ইরান। বাঁদিক থেকে ইরান আক্রমণে উঠে সুযোগ তৈরি করে এবং মিলাদ মোহাম্মাদি জোরাল বাঁকানো শট নেন। গোলকিপার শুবির লাফিয়ে বল বাইরে পাঠিয়ে দেন বটে। তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি। রেজাইয়ান দূরের কোণায় একটি চতুর ট্যাপ-ইনে বল পাঠান কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।

এই ফাউলে উল্টো চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন আব্দেলমোমেন। ২০তম মিনিটে হলুদ কার্ড পান মিশরের গোলস্কোরার সবের।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ