নগরীর খেলার মাঠ হারিয়ে যাচ্ছে
সময় থাকতেই সংরক্ষণের উদ্যোগ চাই
চার দশক আগেও রাজশাহী শহর পুকুরের শহর বলে খ্যাত ছিল। একইভাবে রাজশাহী শহরের প্রায় সব মহল্লাতেই খেলাধূলার জন্য খোলা মাঠ ছিল। ওইসব মাঠে বিকেল হলেই খেলার আয়োজন চলতো। তরুণ, শিশু-কিশোরদের ঘাম ঝরানোর ক্ষেত্র হিসেবেই মাঠগুলো শক্ত-সামর্থ জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতো। কে না জানে- ধেলাধুলা সবল স্বাস্থ্য ও সুস্থ মনোদৈহিক দৃঢ় প্রজন্ম সৃষ্টিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতো।
এখনো খেলাধুলার প্রয়োজনীয়তা বারবার সামনে আসছে। বলা হচ্ছে- খেলাধুলার মধ্যে থাকলে অসামাজিক অপরাধ প্রবণতা থেকে যুবসমাজ দূরে থাকতে পারে। চলমান মাদকাসক্তির উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার এই দুঃসময়ে তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তির ছোবল থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে খেলাধুলাকেই অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। অবশ্য এটা শুধুই উপলব্ধি মাত্র। এর বাস্তবিক কোনো উদ্যোগ পরিরক্ষিত নয়। বরং হতাশাজনক পরিস্থিতিই দেখতে হচ্ছে। পরিবেশ-বান্ধব রাজশাহী শহরের পুকুরগুলো একে একে বন্ধ হচ্ছে- একইভাবে খেলার মাঠগুলোও উধাও হয়ে যাচ্ছে। শিশু-কিশোর ও তরুণরা এখন অনেকটাই গৃহবন্দি, সমাজ-সম্পর্কহীন।
খেলাধুলার স্থলে এখন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ফোন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- বিনোদনের প্রধান হয়ে উঠেছে। মোবাইল ফোনেই বুঁদ হয়ে আছে শিশু-কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধ সকলেই। এ অনেকটাই নেশার মত, ভয়ঙ্কর আসক্তি। সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে- বাংলাদেশে তো বটেই, পৃথিবীর দেশে দেশে। এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা। এই সমস্যা মোকাবিলার প্রশ্নেই চলে আসছে খেলাধুলার কথা, মাঠ সুরক্ষার কথা।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূচনাই করা হয়েছে এই ভাবে- ‘এক দশক আগেও বিকেলের আলো নরম হয়ে এলে রাজশাহী মহানগরীর পাড়া-মহল্লা মুখর থাকত ফুটবলের লাথি, ক্রিকেট বলের শব্দ আর কিশোরদের উচ্ছ্বাসে। সেই প্রাণচাঞ্চল্য এখন ক্রমেই স্তব্ধ। কংক্রিটের উঁচু দালান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যানজটে শিশু-কিশোরদের দৌড়ানোর জায়গা নেই। আকাশে কংক্রিটের জঙ্গল যত উঁচু হচ্ছে, তত নিচু হয়ে আসছে শিশুদের খেলার স্বপ্ন। খেলার মাঠের সংখ্যা এমনিতেই সীমিত। যা আছে তারও বড় অংশ খেলার অনুপোযোগী। কোথাও অবকাঠামো, কোথাও দখলদারিত্বের ছাপ।’
আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় খেলার মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু নগর বর্ধ্বিতকরণের সময় খেলার মাঠ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বহীন থেকে যায়। ফলে নগর ইট-পাথরের জঙ্গলে পরিণত হয়। মানুষ প্রকৃতিরই অংশ। তাদের জীবন-যাপনে প্রকৃতির সাহচর্য খুবই প্রয়োজন হয়। মুক্ত প্রান্তরে দঁড়িয়ে বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে কেই বা না চায়।
সময় সহনীয় পর্যায়ে নেই- তবে সহনীয় পর্যায় তৈরি করার সুযোগ আছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন মাঠ সংরক্ষণে দৃঢ়মনোভাব দেখাবে, একই সাথে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নগর সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় মহল্লায় মহল্লায় অবশ্যই মাঠ, উদ্যান ও পুকুর সৃজন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিবে- এটাই প্রত্যাশা।