কেইনের জোড়া গোলে কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ১৬-তে ইংল্যান্ড
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচের প্রথম সাত মিনিটেই গোল হজম করে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ইংল্যান্ড। পরিসংখ্যানও ছিল ইংলিশদের বিপক্ষে। বিশ্বকাপে আগে গোল হজম করে থ্রি লায়ন্সদের ম্যাচ জেতার সবশেষ রেকর্ডটি ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে। এরপর আর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করার পর কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে পারেনি তারা।
কিন্তু ইতিহাস তো বদলায়। বিশেষ করে কোনো দলে যদি হ্যারি কেইনের মতো গোল মেশিন থাকে তাহলে আসলে ইতিহাস নিজের মতো লিখা সম্ভব। ইংলিশ অধিনায়কের দুর্দান্ত জোড়া গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে ২-১ ব্যবধানে ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুতেই কঙ্গোকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড ব্রায়ান সিপেঙ্গা। ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত ডান পায়ের শট জড়িয়ে যায় জালের নিচের বাঁ কোণায়। গোলটির পেছনে ছিল অধিনায়ক শানসেল এমবেম্বার নিখুঁত অ্যাসিস্ট। সেই গোলেই চাপে পড়ে যায় ইংল্যান্ড।
গোল হজমের পর থেকেই আক্রমণের পর আক্রমণ চালাতে থাকে ইংল্যান্ড। কিন্তু কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি ছিলেন দুর্ভেদ্য। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জুড বেলিংহামের শক্তিশালী হেড অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় ফিরিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধেও একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইংল্যান্ড, আর এমপাসি বারবার হতাশ করেন কেইন-বেলিংহামদের।
শেষ পর্যন্ত ৭৫তম মিনিটে আসে বহু প্রতীক্ষিত সমতা। মার্কাস রাশফোর্ডের বদলি অ্যান্থনি গর্ডনের দারুণ ক্রসে হেড করে জালে বল পাঠান হ্যারি কেইন। ডিআর কঙ্গোর গোলরক্ষক এমপাসি বল স্পর্শ করলেও সেটি ঠেকাতে পারেননি। ১-১ সমতায় ফিরে নতুন উদ্দীপনায় খেলতে শুরু করে ইংল্যান্ড।
সমতার মাত্র ১১ মিনিটের মধ্যেই আবারো জ্বলে ওঠেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। বক্সের সামান্য বাইরে সেই গর্ডনের কাছ থেকেই বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ের জোরালো শটে জাল কাঁপান কেইন। মাত্র ১৫ মিনিট আগেও ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ইংল্যান্ড মুহূর্তেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানই ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৩-তে নিয়ে যান হ্যারি কেইন। এর মধ্যে এবারের আসরেই তার গোল পাঁচটি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের গোলসংখ্যায় ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
শুরুতে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও অধিনায়ক কেইনের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে জার্সি পাওয়ার দেখাল ইংল্যান্ড। দারুণ এই প্রত্যাবর্তনের জয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিল টমাস টুখেলের দল।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি