শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

বিশ্ব বাজারে পোশাক শিল্পের দুর্দিন

সোনার দেশ ০২ জুলাই ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০২ জুলাই ২০২৬ ১১:০২ অপরাহ্ন
বিশ্ব বাজারে পোশাক শিল্পের দুর্দিন

প্রতিযোগিতামূলক পুনর্গঠনে সক্ষমতা অর্জন করতে হবে

তৈরি পোশাক শিল্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশ ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে। ইউরোপের ক্রেতারা ধীরে ধীরে বিকল্প সরবরাহকারী দেশের দিকে ঝুঁকছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ভারত। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য হতাশাজনক। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয় ইউনিয়নের বাজারের ওপর নির্ভর করে আছে। এই নির্ভরতার বিকল্প বাজারও বাংলাদেশের সামনে আপাতত নেই। ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। 

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে- দেশের মোট তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইউরোপের ২৭টি দেশে। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, সেই বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আগের মতো শক্তিশালী নেই। ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৬ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ইউরো। আগের বছরের একই সময়ে এই রফতানি ছিল ৭ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ইউরো বা ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

সার্বিক পরিস্থিতির কারণে একক বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রেও বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি গত দুই বছর ধরে কমছে। যদিও অন্যান্য দেশ পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য বলছে, দেশটি গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৭২ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। আগের বছরের তুলনায় তা শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।

এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হয়েছে ছয় দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। প্রশ্ন ওঠে, প্রতিযোগী দেশগুলো কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বাড়িয়ে তুলছে এবং দেশটির বাজারে তৃতীয় শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নিচ্ছে কেন?

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পিছিয়ে পড়ার মূল কারণগুলো হলো- ধারাবাহিক গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পণ্য ডেলিভারির দীর্ঘ সময় (লিড টাইম) এবং ভিয়েতনাম, চিন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা। 

অর্থনীতিবিদদের মতে, এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কম দামে নয়, বেশি মূল্যসংযোজন, দ্রুত সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো এবং নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা পুনর্গঠন করা। অন্যথায় ইউরোপের বাজারে যে জায়গা বাংলাদেশ গত তিন দশকে তৈরি করেছে, তার একটি অংশ স্থায়ীভাবেই প্রতিযোগী দেশগুলোর দখলে চলে যাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকবিলায় বাংলাদেশকে খাপ খাওয়াতে অনেক বেশি কৌশলী হতে হবে। নতুবা সামনের দিনগুলোতে আরো নেতিবাচক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে।