শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নগরীতে ডেঙ্গু ঝুঁকি!

সোনার দেশ ০৩ জুলাই ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৩ জুলাই ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন
নগরীতে ডেঙ্গু ঝুঁকি!

সতর্কতামূলক কার্যক্রমে গতি চাই

রাজশাহী মহানগরীতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে নতুন ডেঙ্গু রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রাক-বর্ষা কীটতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে, নগরীতে এডিস মশার ঘনত্ব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত ঝুঁকিমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনের যে তথ্য তা উদ্বেগজনক। 


রামেক হাসপাতালের দেয়া তথ্যমতে, জুন মাসের শেষ ২০ দিন ও জুলাই মাসের প্রথম দুই দিনে ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে ২১ জন। এই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর খবর না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ১৮ মাস বয়সী এক শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।


গত মে মাসে পরিচালিত জরিপে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ব্রেটো ইনডেক্স (বিআই) পাওয়া গেছে ৩০ দশমিক ৬৬। ডব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই সূচক ২০-এর বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকাকে ডেঙ্গু সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জরিপে নগরীর ৭৫টি বাড়ির ১৫টিতেই এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ফলে হাউস ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে বিশ শতাংশ। একই সঙ্গে পরীক্ষা করা ৫২টি পানিধারণকারী পাত্রের মধ্যে ২৩টিতে লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।


জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি পাঁচটি বাড়ির একটিতে এবং প্রায় অর্ধেক পানিধারণকারী পাত্রে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব স্থানে আরও পানি জমলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।


ডেঙ্গু ঝুঁকি শুধু রাজশাহী মহানগরীতে নয়- সারা দেশেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির কথা বলা হচ্ছে। স্বয়ং স্বাস্থ্যমন্ত্রী আশংকা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে নতুন মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তবে তিনি আশান্বিত করেছেন যে, সরকার বসে নেই। প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত দুই মাস ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং রোগিদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য এনএস১ পরীক্ষার কিট পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালগুলোকে রোগীর চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সেবাও চালু করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।


কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তাসমূহ সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌছানোর জন্য প্রচারণামূলক কার্যক্রমে গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচি’ হবে এখনই সতর্কতামূলক কার্যক্রমে গতি আনা। সরকারের একার পক্ষে ডেঙ্গু ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না- যদি না নগরবাসী সতর্ক হয়। বিশেষ করে এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরোধে প্রতিটি মানুষের দায়বদ্ধতা রয়েছে। এই দায়বদ্ধতার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব রয়েছে।


সব কিছু জেনেও যে বা যারা এডিস মশার বংশ বিস্তার প্রতিরোধে অনীহা দেখাচ্ছে- এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিতে হবে। রাজধানীতে এমন কার্যক্রম অব্যাহত আছে। রাজশাহী মহানগরীতেও এ ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে। রাজশাহী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে- তাই বিষয়টিকে হাল্কা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।