শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

পাঁচ বছরে ৬৫ পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

সোনার দেশ ০৬ জুলাই ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৬ জুলাই ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
পাঁচ বছরে ৬৫ পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

পেশাগত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ চাই

২০২০-২০২৬ সালের জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ফারুক ও আমিনুলের মতো পুলিশের ৬৫ জন সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর ও বিভিন্ন ইউনিটের তথ্যের বরাত দিয়ে এ সংক্রান্ত একট্রি প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 


পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আত্মহত্যাকারীদের বড় অংশই কনস্টেবল ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) পদমর্যাদার সদস্য। কেবল গত দেড় বছরেই আত্মহত্যা করা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ১৬ জন কনস্টেবল এবং ৪ জন এএসআই। এ ছাড়া একজন এসআই এবং একজন এএসপি রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত বাহিনির সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণ।


নিহতদের পরিবার, সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরির চাপ, পারিবারিক জটিলতা, আর্থিক সংকট, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং মানসিক অবসাদ তাঁদের অনেককে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।


পুলিশ সদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা একটি গভীর মানসিক ও পেশাগত সংকট হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। যে কোনো মানুষের, সে পুরুষ হোক কিংবা নারী হোক- পারিবারিক ও পেশাগত পর্যায়ে সন্তুষ্টির মাত্রা কতটুকু তার ওপর নির্ভর করে ওই ব্যক্তি মানসিকভাবে কতটুকু প্রশান্তি লাভ করবে। এটা সুখের মাত্রাও নির্ণয় করে। পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালনে গভীর মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এই পরিস্থিতি তাদের মানরসিক সুস্থতা ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করে থাকে। এই পরিস্থিতি উত্তরণের কোনো উপায় না পেয়ে আত্মহত্যাকে মানসিক যন্ত্রণার অবসান হিসেবে বেছে নেয়া হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, অপর্যাপ্ত ছুটি, কাজের পরিবেশের সাথে মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা জীবন-সন্তুষ্টির মাত্রাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে যায়। এই সংকট নিরসনে নিয়মিত কাউন্সেলিং, কাজের সময় কমানো এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পেশাদার সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি বলেই ধারণা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। 


দেশের ৫৯টি জেলায় পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও কোথাও পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেই।


অথচ তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে অধিক যত্ন নেয়া প্রয়োজন। স্থায়ীভাবে সাইকিয়াট্রিস্ট নিয়োগ সময়ের দাবি হিসেবেও গণ্য হচ্ছে।


পেশাগত সমস্যাগুলো পেশার ধরনের ভিত্তিতেই সমাধান করা যেতে পারে। পুলিশ বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয়। প্রতিটি পুলিশ সদস্য কতটা আত্মসম্মানের সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারছেন- সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। চাকরিতে ভয়-ভীতি, বৈষম্য, অমর্যাদা ও নির্দেশনার বাড়াবাড়ির শিকার হতে হচ্ছে কি না তা পুলিশ বিভাগকেই খুঁজে বের করতে হবে এবং তার সমাধান দিতে হবে। সামাজিক ও পারিবারিক ব্যত্যয়ের কারণগুলোও সবিশেষ সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।