নওগাঁয় মাদকাসক্তি ছেলের হাতে বাবা হত্যা
প্রতিরোধে বিনিয়োগ, চক্র ভাঙ্গতে হবে
এ বছর মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- ‘প্রমাণ স্পষ্ট, প্রতিরোধে বিনিয়োগ করুন। চক্র ভেঙে ফেলুন। সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করুন।’ প্রতিপাদ্য বিষয়ই বলে দেয় আন্তর্জাতিকভাবেই মাদক পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক। একই সাথে পরিস্থিতি উত্তরণের উপায়ও বলা হয়েছে। মাদকের ভয়াবহতায় বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে- দেশে এখন মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ লাখ। মাদকাসক্তদের বেশির ভাগ পুরুষ। নারী ও শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তি রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক সমীক্ষায় মাদকাসক্ত জনসংখ্যার এই প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ধরনের সমীক্ষা এই প্রথম করেছে ডিএনসি। এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট একটি সমীক্ষা করেছিল, সেখানে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল ৩৬ লাখ।
এটা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলা হয়- কোনো পরিবারে একজন মাদকসেবি থাকলে ওই পরিবারটি নরকসম পরিস্থিতির মধ্যে থাকে। এমন কথার ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে নওগাঁ শহরের বনানীপাড়া এলাকায় এমনই ভয়ঙ্কর ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়। সোনার দেশে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে ওই ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলের মারধরে বাবা মহাতাব সরকার (৬২) নিহত হন। ছেলে সুমন কয়েক বছর আগে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে সংসারে প্রায় ঝগড়া হতো এবং অশান্তি লেগেই থাকতো। মাদকাসক্তের কারণে গত এক বছর আগে সুমনকে রেখে তার স্ত্রী সুমা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চলে যান। কয়েকদিন আগে সুমা বাড়িতে আসেন। আবারও ঝগড়া হয়। সুমন রাগ করে রোববার রাত ১২টার দিকে তার বাবার কাছে শুয়ে পড়েন। সুমনের ঘুম আসছিল না দেখে বাবা মহাতাব সরকার দোয়া পড়ে তার ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে আরও রেগে যান সুমন। এক পর্যায়ে তার বাবার হাত ধরে জোর করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে এসে বাড়ির উঠানে কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরে কয়েকটি আঘাত করেন এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং মারা যান। মাদকাসক্ত ছেলের হাতে বাবা কিংবা মাকে হত্যার ঘটনা নেহাতই কম নয়।
দেশে বিভিন্ন অপরাধের পেছনে মাদকাসক্তিও একটি প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে সংঘটিত মোট অপরাধের প্রায় ৮০ শতাংশ কোনো না কোনোভাবে মাদকের সাথে সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা যদি ৮৩ লাখে পৌঁছে যায়, তবে সেটি দেশের মাদক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি নির্দেশ করে। এটা প্রমাণ করে, দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রতিপাদ্যই উপায়ের কথা বলে। অর্থাৎ মাদকের প্রভাব ও প্রসারের প্রমাণ স্পষ্ট, প্রতিরোধে বিনিয়োগ করতে হবে। চক্র ভেঙে ফেলতে হবে। সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করতেই হবে।