শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
বিপাকে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের রেফারি!

মেসিদের ‘সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগে ছাঁটাই হতে পারেন বিশ্বকাপ থেকে

সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ জুলাই ২০২৬ ০১:০৯ অপরাহ্ন খেলা
সোনার দেশ ডেস্ক ০৯ জুলাই ২০২৬ ০১:০৯ অপরাহ্ন
মেসিদের ‘সুবিধা’ দেওয়ার অভিযোগে ছাঁটাই হতে পারেন বিশ্বকাপ থেকে
মাঠে মিশরের কোচ হাসানের (বাঁ দিকে) সঙ্গে বিতণ্ডায় রেফারি। হাসানকে হলুদ কার্ড দেখান তিনি। পিছনে দাঁড়িয়ে মো সালাহ্‌। ছবি: রয়টার্স।

শাস্তি পেতে পারেন ফ্রাঁসোয়া লেতেসিয়ার। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের এই রেফারির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে ফিফা। ফ্রাঁসোয়ার বিরুদ্ধে ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল সংস্থা। চলছে তদন্ত। দোষী প্রমাণিত হলে এই বিশ্বকাপ থেকে ছাঁটাই হতে পারেন তিনি।

‘লা ইকুইপ’ জানিয়েছে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে ফ্রাঁসোয়ার পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানাবে ফিফা। তবে এই বিষয়ে কোনও দেশ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না বা প্রভাব খাটাতে পারবে না। ফিফার রেফারির কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, রেফারিদের নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনও দেশ ভেটো প্রয়োগ করতে পারে না। অর্থাৎ, পুরো সিদ্ধান্তই ফিফার। যদি প্রমাণিত হয় যে, লিয়োনেল মেসিদের ইচ্ছা করে ফ্রাঁসোয়া সুবিধা দিয়েছেন তা হলে এ বারের বিশ্বকাপ থেকে তাঁকে ছাঁটাই করা হতে পারে।

আগে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘দিয়ারো এএস’ জানিয়েছিল, মিশর ফুটবল সংস্থার সভাপতি হানি আবো রিদা ফিফার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আর্জেন্টিনা ম্যাচের দায়িত্বে থাকা ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে মিশর।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, মিশরের বিরুদ্ধে যে যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা তদন্ত করে দেখুক ফিফা। তাদের মনে হয়েছে, ইচ্ছা করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন রেফারি। তাই তাঁদের এই বিশ্বকাপের আর কোনও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব যেন না দেওয়া হয়। ফ্রাঁসোয়া ও তাঁর দলকে বিশ্বকাপ থেকে বার করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে মিশর।

খেলা শেষে মিশরের কোচ হোসাম হাসানও আঙুল তুলেছেন রেফারির দিকে। সাংবাদিক বৈঠকে এসে কোনও রাখঢাক করেননি হাসান। বলেছেন, “কে কী মনে করল তাতে আমার কিছু যায়-আসে না। আমি সত্যি কথাটাই বলতে এসেছি। ভাল ভাল কথা বলতে এখানে আসিনি। আমাদের সঙ্গে অন্যায় ভাবে প্রতারণা করা হয়েছে। গভীর অবিচারের শিকার হয়েছি আমরা।”

আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি করেন এঞ্জো ফের্নান্দেজ়। তবে মিশরের মতে, তার আগে তাদের পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল। বক্সের মধ্যে হামদি ফাতিকে ফাউল করেছিলেন ম্যাক অ্যালিস্টার।

হাসান বলেন, “ফেয়ার প্লে-কে কোনও রকম সম্মান দেখানোই হল না। পেনাল্টি বাতিল করে দেওয়া হল। ভার-ও পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করল না। দ্বিতীয় গোল অদ্ভুত ভাবে বাতিল করা হয়েছে। সেখানেও ভার পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ আমরা সবাই দেখেছিলাম কী ভাবে পিছন থেকে জার্সি ধরে টানা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “রেফারি ভাল ছিলেন না। অবিচার করেছেন আমাদের সঙ্গে। শুরু থেকে আমাদের বিরুদ্ধে সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন। উনি চাননি আমরা জিতি। এই ম্যাচ চুরি করা হয়েছে। আমাদের দোষ ছিল না।”

মেসিকে বিশ্বকাপে টিকিয়ে রাখতে বা বিশ্বকাপ জেতাতেই ফিফা এই কাজ করছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসান। তাঁর কথায়, “ওরা বোধহয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চায়। হয়তো চায় মেসি আরও কিছু ক্ষণ খেলুক। ফুটবলে কিছু বাইরের শক্তিও রয়েছে, যাদের সামনে কৌশলগত বুদ্ধি কাজে লাগে না। আর্জেন্টিনা সমস্ত বিভাগে ফিফার সাহায্য পাচ্ছে।” এ বার শুধু মুখে অভিযোগ করা নয়, লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর। তার পরেই শুরু হয়েছে তদন্ত।

তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন