শহর রক্ষা বাঁধের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
সমস্যার স্থায়ী সমাধান কীভাবে?
রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষা এবং ঝুঁকিমুক্ত করতে এবং সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের লক্ষে বাঁধের ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ-অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে ৯ জুলাই) দুপুর নগরীর কেশবপুর দক্ষিণপাড়া টি-বাঁধ এলাকায় এই যৌথ অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে কেশবপুর দক্ষিণপাড়া টি-বাঁধের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হাফিজুর রহমান নামের এক দখলদারের নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পর্যায়ক্রমে পুরো জেলার চিহ্নিত এলাকাগুলোতে এই অভিযান চালানো হবে।
জেলা প্রশাসন অভিযানের পূর্বে দখলদারদের একাধিকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে এবং মাইকিং করে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ের নেয়ার জন্য বলা হয়। যারা নিজ উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি- কেবল তাদেরকেই পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে।
রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের প্রধান সুরক্ষা সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঁধের ওপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙন ঝুঁকি এবং বাঁধের বালুক্ষয়। এগুলো নিরসনে ও বাঁধকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যৌথ অভিযান পরিচালনা করে থাকে।
অবৈধ স্থাপনা বাঁধের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে। বর্ষা মৌসুমে পদ্মায় তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙন দেখা দেয়। ১৯৯৮ সালে পরিস্থিতি খুবই বয়াবহ হয়ে উঠে। সেবার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধে অবৈধ স্থাপনা এবং দখলদারের সঠিক কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়নি। তবে, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এর পূর্বের একটি জরিপ অনুযায়ী, বাঁধ এলাকায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক অবৈধ দখলদার রয়েছে। কিন্তু কোনো সময়েই শহর রক্ষা বাঁধ সম্পূর্ণরূপে দখলমুক্ত করা যায় নি।
উচ্ছেদ অভিযান চলে- কিছু স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আবাওেরা উচ্ছেদকৃত স্থান আবারো দখল হয়ে যায়। অথচ সমস্যাটি সমাধানের জন্য কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায় নি। ফলে স্বাধীনতার পর সমস্যা অব্য্হাতভাবে চলে আসছে। তবে নগরবাসীর ভাবনা হলো- রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধের সুরক্ষা দেয়া। এই সুরক্ষার জন্য সুস্থিত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা বাঞ্ছনীয়। এই ব্যবস্থাপনার সাথে নদী-সংলগ্ন এলাকার মানুষদেরও সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। বাঁধ নিয়ে অতি আবেগ যেমন সমস্যার সমাধান নয়Ñ একইভাবে সমস্যাকে গভীরভাবে উপলদ্ধি করা, সমস্যা চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে।