ট্রফি দিলেন ট্রাম্প, ছলছল চোখে ইয়ামালকে জড়িয়ে ধরলেন মেসি
১৬ বছর পর বিশ্বজয় স্পেনের। দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের খেতাব পেল লা রোহা। লামিনে ইয়ামাল, পাও কুবারসি, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসদের প্রাণোচ্ছ্বল স্পেন যোগ্য দল হিসাবেই চ্যাম্পিয়ন হল। ফাইনালে হতাশ করলেন লিও মেসি। যেমনটা করল আর্জেন্টিনাও। কার্যত একপেশে ম্যাচে হারতে হল মেসিদের।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাশিত দু’রকমের ছবি দুই শিবিরে। একদিকে যেমন স্প্যানিশ শিবির ফেটে পড়ল উচ্ছ্বাসে। অন্যদিকে বিষাদ নীল-সাদা শিবিরে। ইয়ামাল-কুবারসির মতো তরুণতুর্কীরা যখন উচ্ছ্বাসে মেতে, তখন পরাজিত মেসিকে দেখা গেল হতাশায় ডুবে যেতে। যেন কোনও রাজা সদ্য যুদ্ধে পরাজিত হয়ে নিজের রাজপাট তুলে দিচ্ছেন অন্য কারও হাতে।
আসলে লিও মেসিকে আর যে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না, সেটা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। নিজের কেরিয়ারের শেষটা তাই স্মরণীয় করতে চেয়েছিলেন মেসি। কিন্তু সবটা সবসময় প্রত্যাশামতো হয় না। এদিনও হয়নি। সেই হতাশার ছাপ দেখা গিয়েছে মেসির অভিব্যক্তিতে।
২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষে মেসিকে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে দেখা গিয়েছিল। তখনও বিশ্বকাপ তাঁর কাছে অধরা মাধুরী। সেই অধরা মাধুরী স্পর্শ করে ফেলেছেন তিনি। এবার সে তুলনায় যন্ত্রণা কম। তবু প্রিয় লিওকে শুকনো মুখে ফিরতে দেখে হতাশ হয়েছে আর্জেন্টিনার ভক্তকুল। গোটা আর্জেন্টিনা গ্যালারি একসঙ্গে তখন মেসির নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে, আর চোখে জল ধরে রাখতে পারেননি ফুটবল ঈশ্বরের বরপুত্র।
তবে মেসির সম্ভাব্য বিদায়ের মঞ্চে নতুন তারা পেয়ে গিয়েছে ফুটবল বিশ্ব। হ্যাঁ, ফাইনালে হয়তো প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স ইয়ামালের পা থেকে আসেনি, কিন্তু দলগত প্রচেষ্টায় তিনি সফল। স্পেন সফল। মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ উঠল ইয়ামালের হাতে। সামনে দীর্ঘ ভবিষ্যৎ। ১৭ বছর আগে সম্ভবত এই ইয়ামালের মধ্যে নিজের উত্তরসূরিকে দেখেছিলেন মেসি। এদিন ছোট্ট আলিঙ্গনে নিজের সেই উত্তরসূরিকে যেন আশীর্বাদ করে গেলেন ‘ঈশ্বর’।
ফাইনালে স্পেন জেতার পর অবশ্য মজার মুহূর্তে কমতি পড়েনি। গোটা দল যখন সেলিব্রেশনের অপেক্ষায়, তখন ট্রফি দিতে এসে খানিক অপ্রস্তুতে পড়তে হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ট্রফিটি তুলে দেওয়ার পর যে তাঁর পোডিয়াম থেকে সরে যাওয়া উচিত, সেটা বুঝতে বড্ড বেশি দেরি করে ফেললেন ট্রাম্প।
পরে অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখা গিয়েছে মেসির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে। সম্ভবত লিওকে সান্ত্বনার কথা শুনিয়েছেন তিনি। ভুলে গেলে চলবে না আমেরিকার মাটিতে এখনও ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর মেসিই।
সেলিব্রেশনের শেষপাতে মিষ্টিমুখের মতো দেখা মিলল ইয়ামালের পুঁচকে ভাই কেইলের। গোটা বিশ্বকাপে সে গ্যালারিতে বসে নাচানাচি করে নজর কেড়েছে। এবার মাঠে নামার সুযোগ পেল কেইল। দাদার জয় তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন