শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমছেই

সোনার দেশ ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৪ অপরাহ্ন
সরকারি প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমছেই

সদিচ্ছা ও পেশাদারিত্বেই বড় ঘাটতি

এক যুগ ধরে রাজশাহী বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে। এই সময়ে বেড়েছে মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। অভিভাবকরা প্রাথমিক শিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। যদিও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন অন্য কথা। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।  

সরকারি প্রাথমিকে অব্যাহতভাবে শিক্ষার্থী কমছে- এটা শুধু রাজশাহী বিভাগেই নয়, সারা দেশের চিত্র এটি। সমস্যা গোড়া থেকেই ছিল- কিন্তু তা সমাধানে বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বরং প্রাথমিক শিক্ষা উদাসীনভাবেই চলতে দেয়া হয়েছে, এখনো হচ্ছে। তবে ২০২০ সালে করোনাকালে শিক্ষা কার্যক্রম বড় ধরনের ধাক্কার মধ্যে পড়ে। সে বিষয়টির তাত্বিক বিশ্লেষণ যেমন, একইভাবে করোনার পুঞ্জিভুত সমস্যাগুলোকেও মূল্যায়ণ করা হয়নি, হলেও তার বাস্তব পদক্ষেপ মাঠ পর্যায়ে লক্ষ্য করা যায় নি। প্রাথমিক শিক্ষাকে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ঠেলে দেয়া হয়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ইউনিট এ বছরের জুনে  পরিচালিত জরিপে লক্ষ্য করেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিশুশিক্ষার্থী বাংলা ভাষার কয়েকটি বর্ণ-ই, ঈ, উ, ঊ, স, শ এবং ঙ সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারে না। যুক্তবর্ণে তারা হোঁচট খায়। শিশুদের অনেকে ইংরেজিতে দুর্বল। গণিতে দুর্বলতাও চোখে পড়ার মতো। ঢাকা মহানগরে ৩৪১টি, ঢাকা জেলার প্রায় ৬০০, নারায়ণগঞ্জের ৫৪৭ ও মুন্সিগঞ্জের ৬১১টি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এই চিত্র পাওয়া যায়। এই তথ্য শিক্ষা-মানের দৈনতাই তুলে ধরে। এবং এটিই প্রধানতম সমস্যা। এর সাথে আরো সমস্যা আছে- যেগুলোকে বেশি করে ফোকাস দেয়ার চেষ্টা হয়। কিন্তু শিক্ষার মান উন্নত করা গেলে বাকি সমস্যার অনেকগুলোই এমনিতেই সমাধান হয়ে যাবে। প্রধানতম সমস্যাটির কারণে অভিভাবকদের মধ্যে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। এই আস্থাহীনতায় বিশেষ করে  নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের ধারণা যে, সরকারি প্রাথমিক স্কুলে কোনো লেখাপড়াই হয় না। ফলে তারা কিন্ডার গার্টেনকেই অধিক পছন্দের মধ্যে নিচ্ছে। অনেকের ক্ষেত্রে আর্থিক সমস্যা আছে বটে কিন্তু সন্তানের জন্য কষ্ট হলেও বিনিয়োগ করছে। আর দরিদ্র মানুষের একটি বড় অংশ সন্তানের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করতে না পেরে মাদ্রাসার প্রতি ঝুঁকছে।

এই পরিস্থিতিকে নানাভাবে বর্ণনা  ও এর ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়; কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার প্রশ্নে কোনো ব্যাখ্যারই যৌক্তিক উত্তর নেই। সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষকরা সরকারি স্কেলে বেতন পান। অথচ কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকগণ ৫/৬ হাজার টাকা বেতনে শিক্ষকতা করে। আর্থিক এই বিশাল তারতম্যের পরেও কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষাকে ছাপিয়ে উঠছে কেন? ওখানেই কেন অভিভাবকের আস্থার ভিত রচিত হচ্ছে? এর উত্তর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, শিক্ষক যারা আছেন- তাদেরকেই এর সঠিক উত্তর দিতে হবে। এটা জবাবদিহিতা। সদিচ্ছা ও পেশাদারিত্ব ছাড়া শিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন দূরপরাহত। এখানের ঘাটতিটা রয়ে গেছে ব্যাপকভাবে। বিষয়টি সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য।