শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

‘স্কুল ফিডিং’ বা মিডডে মিল প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি!

সোনার দেশ ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ২৫ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৯ অপরাহ্ন
‘স্কুল ফিডিং’ বা মিডডে মিল প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি!

অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টির মান নিশ্চিত করতে সরকারের ‘স্কুল ফিডিং’ বা মিডডে মিল প্রকল্প চালু আছে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কিন্তু উদ্যোগ মহতি হলেও এক শ্রেণির অতি লোভী ঠিকাদার ও অসাধু চক্রের যোগসাজসে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুদের খাদ্য নিয়েও তারা দুর্নীতিকে অবলম্বন করছে। এটা অনাকাক্সিক্ষত ও অত্যন্ত নিন্দনীয় হলেও বাস্তবতা হলো- দুর্নীতি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে শিশুরাই বঞ্চিত হচ্ছে, পীড়িত হচ্ছে।  

সম্প্রতি বিভিন্ন জেলায় মিডডে মিলের নিম্নমান ও পচা-বাসি খাবার খেয়ে কোমলমতি শিশুদের অসুস্থ হওয়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই প্রকাশিত ও প্রচারিত হচ্ছে। এই ঘটনায় মানুষ-মাত্রই উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ না হয়ে পারে না। সংবাদ মাধ্যমে তথ্যমতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মাদারীপুর, পিরোজপুর, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পচা ডিম, আধাপাকা কলা কিংবা দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি খেয়ে শিক্ষার্থীরা বমি ও পেটব্যথার মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্রেফ মুনাফার লোভে পচনশীল খাদ্যের মান ও পরিবহণের ন্যূনতম তোয়াক্কা করছে না। আরো ভয়ের ব্যাপার হলো, অনেক প্রধান শিক্ষক খাবারের মান নিয়ে আগেই আপত্তি জানালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই যে উদাসীনতা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং যে অপরাধ কোনোভাবেই গ্রাহ্য করার সুযোগ নেই।

সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাবনার বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুতুড়ে শিক্ষার্থী দেখিয়ে অতিরিক্ত শিশুখাদ্য বরাদ্দ নেয়া, উদ্বৃত্ত ডিম-রুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। এটা সত্য হলে- অবাক না হয়ে পারা যায় না। শিক্ষক- যারা মানুষ গড়ার কারিগর তারা দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং তারা স্ব স্ব অন্যায় স্বার্থ সংঘবদ্ধ হয়ে চরিতার্থ করছেন। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অবশ্যই এর প্রতিকার হতেই হবে। তদন্ত করে দুর্নীতি-অনিয়ম খতিয়ে দেখে আপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শিশুদের বিদ্যালয়ে আকৃষ্ট করা এবং তাদের বেড়ে ওঠার পথে সহায়ক পুষ্টির যোগান দেয়া। এমন একটি মহতি কাজকে যে বা যারা কলঙ্কিত করতে চায় অবশ্যই তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।