জরাজীর্ণ ভবনে বত্রিশ পরিবার
পুনর্বাসনের দাবি উপেক্ষা করা যায় না
নগরীর ‘টিবিপুকুর’ এলাকায় সরকারি পাঁচটি পরিত্যক্ত ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছেন ৩২টি পরিবার। ভবনগুলো অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশংকাও করা হচ্ছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারপরও পরিবারগুলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সাথে করেই বসবাস করছেন। জীবনের ঝুঁকি-অথচ তাদের কাছে কোনোই বিকল্প নেই। এর বিকল্প চিন্তা করলে মাথার ওপর ছাদ থাকে না। মাথার ওপর ছাদ রাখতে গেলে খাবার জুটবে না। উভয় সঙ্কটের মধ্যে ৩২টি পরিবার।
সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়-পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনগুলো রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি)। ভবনের বাসিন্দাদের পরিবারের কেউ আইএইচটি, কেউ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্য বিভাগের অন্য কোনো দপ্তরের সাবেক বা বর্তমান চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী। নিম্নআয়ের মানুষগুলো শুধু বাসাভাড়া বাঁচাতেই এখানে বসবাসের ঝুঁকি নিয়েছেন।
তথ্যমতে, ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দুটি দোতলা, একটি তিনতলা ও দুটি একতলা ভবন। ভবনগুলো একেবারেই জরাজীর্ণ। খুলে খুলে পড়ছে পলেস্তরা, দেয়ালে দেয়ালে জন্মেছে গাছপালা। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে ফাটল। দোতলা একটি ভবনের একটি জানালারও রড নেই। রডের বদলে সেট করা হয়েছে কাঠ। বসবাসকারিরা দিনরাত দুটি আতঙ্কে থাকেন। যে কোনো সময় গায়ের ওপর ভবন ভেঙে পড়তে পারে- আবার যে কোন সময় তাদের উচ্ছেদ করা হতে পারে। উচ্ছেদ করলে সন্তানদের নিয়ে কোথায় উঠবেন- তা নিয়েও তারা সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
ভবনগুলো গণপূর্ত বিভাগ অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও তারা নিজ দায়িত্বে থাকেন। অনেকে ভেতরটা নিজেদের মতো করে সংষ্কার করেছেন। বারবার নোটিশ দেয়া হয়েছে কিন্তু বসবাসকারিরা বাসা ছেড়ে যান নি। সংশ্লিষ্টরাও মানছেন, ওই ভবনে বসবাস করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
বসবাসকারিরা স্বল্প বেতনে পরিবার নিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া করে থাকার সঙ্গতি নেই। বাধ্য হয়েই তারা থাকছেন। তাদের উচ্ছেদ করা যেতেই পারে- কিন্তু সেটা অমানবিক হবে। পুনর্বাসনের বিষয়টি মোটেও অন্যায্য কিছু নয়। অন্তত টিনের শেড করে ৩২ টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা যেতে পারে। জীবন রক্ষার জন্য জীবনের দাবি সব সময় অগ্রাধিকার পেতে পারে। বিষয়টি সহৃদয় বিবেচনার দাবি রাখে, উপেক্ষা করা যায় না। কোনোভাবেই বড় ধরনের ট্রাজেডি সংঘটিত হওয়া কারোরই কাক্সিক্ষত হবে না।