ইরান যুদ্ধে আমেরিকা ক্লান্ত?
তবুও, যুদ্ধাবসানই একমাত্র সমাধান
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ কি ভিয়েতনামের পরিণতি পেতে যাচ্ছে? ইরানকে শায়েস্তা করার অতিসরলীকরণ যুদ্ধাগ্রাসন শেষ পর্যন্ত বিফল হতে যাচ্ছে। আপাত পরিস্থিতি বিবেচনায় তেমনটিই ধারণা করা হচ্ছে। টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে হামলা চালানোর পর তা হঠাৎ স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনীতিক তৎপরতার গতি বৃদ্ধি, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মজুতে টান পড়া এবং সংঘাত ব্যাপক রূপ নেয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মার্কিন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৪ জুলাই নেয়া এই সিদ্ধান্তটি গত দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে প্রথম বিরতি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের কাছে হামলার নতুন একটি পরিকল্পনা পেশ করা হলেও তিনি সামরিক বাহিনিকে নতুন করে কোনো হামলা না চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন আলোচনা ও চুক্তির দিকে এগোনোর সংকেত দিলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ২৪ জুলাই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে তিনি মনে করেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তির দিকে এগোনোই হবে ‘আরও বুদ্ধিমানের কৌশল’। অর্থাৎ মার্কিন প্রেসিডেন্টের আগ্রাসী মনোভবের পরিবর্তন হয়েছে= এমনই ধারণা। একদা নিজের ক্ষমতাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাতুড়ি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা ট্রাম্প এখন নিজেই এক যুদ্ধের জালে আটকে পড়েছেন, যা থেকে বের হওয়ার পথ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং দেশটির সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে তিনি পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করেন। তবে পাঁচ মাস পরও সেসব লক্ষ্য প্রায় পুরোই অধরা রয়ে গেছে। ভেনিজুয়েলা মডেলে সরকার পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস থাকলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে তেহরানে এই কৌশল সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে ট্রাম্প এখন নতুন করে বড় সামরিক অভিযানে নামতে দ্বিধাগ্রস্ত। এই যুদ্ধ এখন মার্কিন জনগণের কাছেও মারাত্মক অজনপ্রিয়। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৯ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধে ট্রাম্পের ভূমিকা সমর্থন করছেন। ট্রাম্পের প্রধান সমর্থকরাও এখন এই যুদ্ধ থেকে বের হয়ে আসার তাগিদ দিচ্ছেন।
বর্তমানে ট্রাম্পের সামনে মূলত তিনটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমত, সামরিক অভিযান তীব্র করা। কিন্তু এটি করলে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বহুগুণ বাড়বে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিতর্ক উঠবে। তাছাড়া, টানা ১৩ দিনের বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ইন্টারসেপ্টরের মজুদ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা। তবে তেলের ওপর নতুন করে কঠোর অবরোধ কার্যকর করতে দীর্ঘসময় লাগবে, যা বেশ ব্যয়বহুল এবং এতে মার্কিন সেনাদের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
তৃতীয়ত, বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ থেকে সরে আসা। কিন্তু এতে করে জ্বালানি বাজারে নতুন অস্থিরতা তৈরি হবে এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অপরিবর্তিত থেকে যাবে।
এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব খোদ আমেরিকার ওপর পড়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশও অর্থনীতি নিয়ে বিপাকে পড়েছে। অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। এ থেকে মুক্তিন একটাই উপায় তা হলো ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের ত্বরিৎ অবসান হওয়া।