শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

দুর্গাপুরে পাটের দাম ভালো খুশি চাষিরা

গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ন কৃষি
গোলাম রসুল,দুর্গাপুর ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:৩০ অপরাহ্ন
দুর্গাপুরে পাটের দাম ভালো খুশি চাষিরা

রাজশাহীর দুর্গাপুরে চলতি মৌসুমে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরা। বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বাজারে পাটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘদিনের লোকসান কাটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেক কৃষক। তবে বাজারে শুরুতে পাটের দাম একটু বেশি থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা কম।


এক সময় দেশের অন্যতম অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় দুর্গাপুরের অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম পাওয়ায় তারা বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকেছিলেন। তবে চলতি মৌসুমে বাজারে পাটের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই হতাশা অনেকটাই দূর হয়েছে পাট চাষিদের।


বাজারে পাট বিক্রি করতে আসা ওয়াজ নবী বলেন, ‘গত বছর আমি প্রতি মণ পাট ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি করেছি। তবে এ বছর পাটের দাম তুলনামূলক ভালো থাকায় আমরা খুসি। রবিবার দুর্গাপুর বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করেছি। মৌসুমের শুরুতে পাটের দাম আরও বেশি ছিল, বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তারপরও গত বছরের তুলনায় এবার ভালো দাম পাওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠিয়ে কিছুটা লাভের আশা করছি।’


পাট বিক্রেতা আবুবক্কার বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় আমরা চাষিরা বেশ খুশি। গত কয়েকটি হাটে দাম আরও ভালো ছিল, তবে আজকে কিছুটা কমেছে। তারপরও যে দাম পাচ্ছি, তাতে উৎপাদন খরচ উঠে আসার পাশাপাশি কিছুটা লাভের আশা করছি। এমন দাম অব্যাহত থাকলে আগামী বছরও পাট চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে।’


উপজেলার সিংগা গ্রামের পাটচাষি আল-আমিন জানান, ‘এবার পাট চাষ করে লাভের মুখ দেখেছি। গত ৫ বছরে পাট ওঠার মৌসুমে এত ভালো দাম পাইনি। এবার উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হচ্ছে। এমন দাম থাকলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষ করব।


পাটের ব্যাপারী লোকমান আলী জানান, পাটের বাজার মোটামুটি ভাল। বর্তমানে পাটের আমদানি একটু বেশি তাই পাটের দাম একটু কমে গেছে। শুরুতে আমরা প্রতি মণ পাট কিনেছি ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। রবিবার দুর্গাপুর হাটে পাটের প্রকার ভেদে পাট কিনেছি ৩ হাজার ৫শ থেকে ৩ হাজার ৭ টাকা মণ। 


দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। 


উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, “এ বছর পাটের ফলন ও বাজারমূল্য দুই দিক থেকেই কৃষকরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। কৃষকরা যাতে লাভজনকভাবে পাট চাষ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী মৌসুমে পাট চাষের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।’